Thursday, February 5, 2026
বাড়িবিশ্ব সংবাদমোদীর পর চীনে এসসিও সম্মেলনে পুতিন ও অন্যান্য বিশ্ব নেতারা

মোদীর পর চীনে এসসিও সম্মেলনে পুতিন ও অন্যান্য বিশ্ব নেতারা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১ সেপ্টেম্বর।। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’(এসসিও)-এর সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর চীনে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। এছাড়াও আরও ডজনখানেকের বেশি দেশের নেতা রোববার এই সম্মেলনে যোগ দিতে চীনে গেছেন। বন্দরনগরী তিয়ানজিনে এসসিও-র দুই দিনের এই সম্মেলন চলবে সোমবার পর্যন্ত। গণমাধ্যম রোববার পুতিনের তিয়ানজিনে পৌঁছানোর খবর জানিয়েছে। রাশিয়া ও চীন এসসিও-কে পশ্চিমা প্রভাব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেই দেখছে। পুতিন চীনে পৌঁছানোর পর তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শীর্ষ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান। রুশ সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, পুতিনের চার দিনের জন্য চীন সফর করছেন।

চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি পুতিনের আগমন নিয়ে বলেছে, দুই দেশের সম্পর্ক এখন ইতিহাসে সর্বোত্তম পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আজ বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল, পরিপক্ব ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।” এসসিও সম্মেলনে মোদী ও পুতিনসহ প্রায় ২০টি দেশের নেতা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই দুই নেতার পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানকেও স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া, অন্যান্য দেশের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিশরের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা মাদবুলি, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতসহ অন্যান্যরা। এসসিও সম্মেলন শেষ হওয়ার পর বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে পুতিন ও কিমসহ আরও কয়েকজন বিশ্ব নেতার। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ওএসসি জোটের এখন ১০ স্থায়ী সদস্য ও ১৬ সংলাপ ও পর্যবেক্ষক দেশ রয়েছে। এর কার্যক্রমের আওতা নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয় ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এ জোটের সদস্য দেশগুলো হল: চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। আর ১৬ সংলাপ ও পর্যবেক্ষক দেশের মধ্যে আছে- মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, তুরস্ক, কম্বোডিয়া, নেপাল, মিশর,মালদ্বীপ, মিয়ানমার, কাতার, সৌদি আরব-সহ আরও কিছু আরব দেশ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে এসসিও সম্মেলনেকে তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়ার জন্য এ আয়োজন বড় ধরনের কূটনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।চীন সফরের আগের দিন দেশটির বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুতিন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ‘বৈষম্যমূলক’ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। বাণিজ্যে পশ্চিমা চাপ এবং যুদ্ধে ব্যয়ের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি এখন মন্দার দ্বারপ্রান্তে। এ পরিস্থিতিতে মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিতে এসসিও সম্মেলনকে ‘গ্লোবাল সাউথ’ ঐক্যের প্রভাবশালী প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করাই চীনের লক্ষ্য।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য