স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক: আগরতলা। ২০ আগস্ট : বুধবার ত্রিপুরা মণিপুরী স্টুডেন্ট ইউথ কোডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্যালয় শিক্ষা অধিদপ্তরে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। সংগঠনের সভাপতি কে ধীরেন সিং এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল সিং সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, আধুনিক ত্রিপুরা গড়ার ক্ষেত্রে মনিপুরীদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু আজ এ রাজ্যের মনিপুরীরা আর্থ-সামাজিক সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে রয়েছে। ৫০-এর দশকে মনিপুরীরা রাজ্যের লোকসংখ্যার অনুপাতে প্রায় ১০ শতাংশ ছিল যা বর্তমানে অতি সংখ্যালঘুতে পরিনত হয়েছে।
চরম রাষ্ট্রীয় বঞ্চনার ফলে বিগত ৫০-৬০ বছরে ৫০ টির মতো মনিপুরী গ্রাম এ রাজ্যের মানচিত্র থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। লোকসংখ্যার হ্রাসের পাশাপাশি শিক্ষা, চাকুরি, জমির মালিকানা, জনপ্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে মনিপুরীরা চরম বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার। রাজ্যের প্রান্তিক মনিপুরীদের জন্য নেই কোন সংরক্ষণ, নেই কোন সরকারী বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। যদিও মনিপুরীরা ওবিসি অর্ন্তভুক্ত কিন্তু ত্রিপুরাতে ওবিসিদের কোন সংরক্ষণের ব্যবস্থা সরকার চালু করেনি। আর্থ-সামাজিক বঞ্চনার পাশাপাশি এ রাজ্যের মনিপুরীরাও ভাষা ভিত্তিক বঞ্চনা ও অবদমনের শিকার। ভাষা হলো একটি জাতিগোষ্ঠীর প্রাথমিক পরিচিতি। ভাষার মাধ্যমে ওই জাতিগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা প্রকাশ পায়। আজ পর্যন্ত একজনও ভাষা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। বর্তমান বিজেপি জোট সরকারও ক্ষমতায় আসার পূর্বে সংখ্যালঘুদের ভাষা-সংস্কৃতি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু মনিপুরী ভাষার ক্ষেত্রে আজ সরকারী ঘোষনার দীর্ঘ আড়াই দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও একজনও ভাষা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। বর্তমানে লক্ষ্য করা গেছে মনিপুরী বিষয় শিক্ষার জন্য নুন্যতম কোন পরিকাঠামো নেই। না আছে কোন পৃথক নিয়মাবলী, না আছে কোন পৃথক আর্থিক সংস্থান। ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে মনিপুরী বিষয় শিক্ষা পুরোপুরি স্তব্ধ। অথচ অবাক করার বিষয় হলো সরকারী কাগজপত্রে ও বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে মনিপুরী শিক্ষা নাকি যথার্থভাবে চালু রয়েছে।
বর্তমানে উচ্চ প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে নাকি মাধ্যমিক স্তরে উন্নিত হয়েছে। অথচ বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই। এভাবে মনিপুরী বিষয় শিক্ষাকে কার্যতঃ প্রহসনে পরিনত করা হয়েছে। এর চেয়ে বড় প্রতারণা পৃথিবীর আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। তাই দাবি আদায়ে জোড়দার আন্দোলন সংঘটিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসাবে বুধবার রাজ্য সরকারের ঘোষিত বিদ্যালয়গুলোতে অবিলম্বে মনিপুরী ভাষা শিক্ষক নিয়োগ করার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকর্তার নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি মনিপুরী বিষয় শিক্ষার জন্য পূর্ন পরিকাঠামো তৈরী করা, রাজ্যের বাজেটে পৃথক আর্থিক সংস্থান রাখা ইত্যাদি দাবিগুলোও উত্থাপন করা হবে।

