স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক: আগরতলা। ২০ আগস্ট : রাজ্যে কলেজ গুলিতে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ঝামেলা চলছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে বিভিন্ন সেমিস্টারের ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা। তাই কলেজের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়ম-নীতি মেনেই শান্তির বাজার গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজের ছাত্র সংসদের তালা দিয়ে রেখেছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ। কলেজের ছাত্র সংসদে তালা দেওয়া নিয়ে বুধবার কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সঞ্জয় দাসের সঙ্গে শুরু হয় ঝামেলা। এদিন সকাল বেলা কলেজের বহিরাগত যুবক সহ কিছু ছাত্র-ছাত্রী অধ্যক্ষের কাছে যান। তারা গিয়ে দাবি করেন ছাত্র সংসদের অফিস ঘর খোলার জন্য তাদের হাতে চাবি তুলে দেওয়ার জন্য।
অধ্যক্ষ তাদের বলেন ছাত্র সংসদের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের নামের তালিকা উনার কাছে জমা দেওয়ার জন্য। তখন বহিরাগত যুবক সহ ছাত্রছাত্রীরা জানান তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। তাদের নামের তালিকা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আছে। কিন্তু অধ্যক্ষের পাল্টা দাবি কোন নামের তালিকা উনার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। গত ১ থেকে দু বছরে বহুবার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বলা হয়েছিল এই নামের তালিকা দেওয়ার জন্য। অথচ তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্র সংসদে তালা দিয়ে রেখেছেন। কারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসের কাউন্সিলেরের মধ্যে।
এ সময়ের মধ্যে যদি কোন রকম সমস্যা হয় তাহলে সেটা যাতে কঠোর আইনিভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে প্রশাসন তার জন্য এই নির্দেশিকা লাগু রয়েছে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা দাবি করেন এর দায়িত্ব তাদের রয়েছে। কোন ছাত্র-ছাত্রী যদি সমস্যায় পড়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্র সংসদ খুলতে হবে। অধ্যক্ষ বিষয়টি নিয়ে বারবারই বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষকে পরিচালনা করতে হয়। অথচ ছাত্রছাত্রীরা তাদের মনগড়া দাবি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। অধ্যক্ষ পরবর্তী সময় ছাত্রছাত্রীদের বলে দেন অবিলম্বে যাতে বর্তমান ছাত্র সংগঠনের তালিকা উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর অনুযায়ী জমা দেওয়া হয়। না হলে তিনি ভবিষ্যতে এভাবে চাবি তুলে দেবেন না। পাশাপাশি এদিন বাক বিতন্ডায় ছাত্র-ছাত্রীদের হয়ে নেতৃত্বে ছিলেন সায়ন দত্ত নামে এক বহিরাগত যুবক। কলেজের অধ্যক্ষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন পরীক্ষার সময় আগামী ২৫ আগস্ট থেকে পুনরায় তালা থাকবে সংসদ। প্রশাসনিক নিয়ম-নীতি মেনে ই পরিচালনা করা হবে। একটা সময় ছাত্রছাত্রীরা বলেন তাদের চাবি না দেওয়া হলে তারা রাস্তা অবরোধ করতে বাধ্য হবে। পরবর্তী সময় ছাত্রছাত্রীদের কথা অনুযায়ী সংসদের চাবি তুলে দেন অধ্যক্ষ। যদি এর মধ্যে কোন সমস্যা হয় তাহলে এর দায়িত্ব নেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংসদ খুলে যদি কোন ঝামেলা সৃষ্টি হয় তাহলে সেটা দেখতে নেবে মনগড়া দাবি করা ছাত্রছাত্রীরা।

