স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক , আগরতলা। ১১ আগস্ট : সোমবার পোয়াংবাড়িতে ত্রিপুরা রাজ্য গণমুক্তি পরিষদের ১৩তম টাক্কা তুলসী অঞ্চল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পোয়াংবাড়ি মনকড়ই ত্রিপুরা মঞ্চে। পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা করেন পলিটব্যুরোর সদস্য জীতেন্দ্র চৌধুরী। পরে সম্মেলনের সমাপ্তি উপলক্ষে পোয়াংবাড়ি বাজারে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরোর সদস্য জীতেন্দ্র চৌধুরী।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সম্মেলনে তিনটা ভিলেজ এলাকার প্রায় কুড়ি থেকে ২২ টি এলাকার প্রতিনিধিরা এসেছেন। গত সাড়ে সাত বছর কারোর প্রলোভন, কারোর রক্তচক্ষু সহ নানা কারণে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্য প্রান্তের মতোই এই ভিলেজ এলাকাগুলিতে মানুষকে কোনঠাসা করে রেখেছিল। যার ফলে মানুষ মুখ বুজে সবকিছু সহ্য করেছে। মুখ খুলে কিছু প্রকাশ করতে পারেনি। আজ যখন চোখের সামনে শুধু মাত্র হতাশা উঠে আসছে তখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। গণমুক্তি পরিষদের সভাতে গেলে বা সিপিআইএমের মিছিলে হাঁটলে সামান্য টুকু রেগার কাজ, ভাতা, ঘর থেকে বঞ্চনা করা হয়। কিন্তু এগুলি জনগণের অধিকার, কোন বিজেপি নেতা বা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাপের সম্পত্তি নয়। তারা নির্বাচিত হয়ে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু তারা কোন জমিদারি পাননি।
কিন্তু এখানে সবকা সাথ, সবকা বিকাশের যে সরকার আছে, তারাই যেন জমিদার। কারণ লক্ষ্য করা যায় মানুষ কি খাবে কি করবে এবং কাকে ভোট দেবে সেটা তারাই ঠিক করতে চায়। তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের মন্ত্রীরা প্রতিদিন খালি বাণী দিয়ে বলেছেন, শিক্ষা হাব, স্বাস্থ্য হাব, ত্রিপুরা সুশাসন, ত্রিপুরা মডেল। অথচ রাজ্যে চলছে শুধু চুরি, ডাকাতি, হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা সুযোগ নেই, বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না। এভাবে ত্রিপুরা রাজ্যকে সর্বনাশে পরিণত করছে। আর পরিকাঠামো, যেমন রাস্তাঘাট, পানীয় জল কিছু হচ্ছে হচ্ছে না। কারণ নিগো মাফিয়া দের দখলে সরকারি অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা। আর তাদের হুকুমে চলতে হচ্ছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের। এভাবে ত্রিপুরা রাজ্যে এক চরম অরাজকতা তৈরি হয়ে আছে। এর বিরুদ্ধে আগামী দিন রুখে দাঁড়াতে হবে। না হলে রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে যাবে। পাশাপাশি বাইক বাহিনীর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যেসব যুবকরা আগে কথায় কথায় মানুষের বাড়ি ঘরে মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটে যেত তাদের সংখ্যা এখন আর বেশি নেই। তারা বুঝতে পারছে এখন তাদের জীবন থেকে সাড়ে সাতটা বছর নষ্ট হয়ে গেছে। তারাও এই রসাতল, দুঃ শাসন থেকে ত্রিপুরা রাজ্যকে রক্ষা করতে রাস্তায় নামছে। তাই দ্রুত ত্রিপুরা রাজ্যকে বর্তমান সরকার থেকে রক্ষা করতে হবে বলে সকলের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। আয়োজিত সভায় এদিন বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষ্যনীয়।

