Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যবিভিন্ন ভাবে বঞ্চনার শিকার হয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন দৃষ্টিহীনরা

বিভিন্ন ভাবে বঞ্চনার শিকার হয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন দৃষ্টিহীনরা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ আগস্ট : সম্প্রতি অডিট দপ্তরের পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী দৃষ্টিহীন ও দিব্যাঙ্গ বালক বালিকাদের বিদ্যালয় সম্পর্কিত একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি সহ বহু অনিয়ম প্রকাশ্যে উঠে এসেছিল। অভিযোগ উঠেছিল সদ্য বদলি হওয়া বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা কৃষ্ণা রায় গাঙ্গুলী কেশিয়ার সুমন অধিকারীর বিরুদ্ধে। ত্রিপুরার সর্বাধিক পঠিত প্রথম সারির দৈনিক খবরের কাগজ স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভিতে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছিল সেই সমস্ত আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং অনিয়ম সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য।

স্যন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের জের ধরে কৃষ্ণা রায় গানগুলিকে বদলি করা হয়েছে অভয়নগরের সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে। শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম সম্পর্কে ত্রিপুরা ব্লাইন্ড অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন সাহা বলেন, গত কয়েকদিন আগে দৃষ্টিহীন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে সত্যিই তাদের অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে তাদের। নিম্নমানের মাছ, মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ সহ বিভিন্ন খাবার সামগ্রী তাদের দেওয়া হচ্ছে। আরো বলেন নবম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সিলেবাস অনুযায়ী ব্রেইল বই দেওয়া হয়নি। এই সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সরকারের কাছে দাবি করা হচ্ছে অবিলম্বে যাতে ছাত্রছাত্রীদের ব্রেইল বই দেওয়া হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো গত শিক্ষাবর্ষে ছাত্রীদের মার্কশিট পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আরো বলেন, সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষকের অভাবে ছেলেমেয়ে উভয়ের বিদ্যালয়ের ক্লাস একসাথে নেওয়া হচ্ছে।

বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের চরম সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে আছে। এবং মেয়েদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই বললেই চলে। প্রশ্ন হলো সরকার কেন দৃষ্টিহীনদের দুটি বিদ্যালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না? তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি সরকার যাতে দুটি বিদ্যালয়ের সঠিকভাবে পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক দেওয়া হয়। আরো বলেন, ২০১৬ সালের আইন অনুযায়ী দৃষ্টিহীনদের জন্য স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার নিয়োগ করা হচ্ছে না। স্বাধীন কমিশনার নিয়োগ হলে দৃষ্টিহীনদের বিভিন্ন সমস্যা গুরুত্ব পেত। কিন্তু তা না করে সরকার সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সচিবকে এই দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সচিব দৃষ্টিহীনদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। দৃষ্টিহীনদের চাকুরি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে চার শতাংশ সংরক্ষণ থাকলেও বেশ কিছু দপ্তরে মানা হচ্ছে না। অথচ দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হয়েছে অবশ্যই সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এই সংরক্ষণ নীতি মেনে চলতে হবে দপ্তরগুলিকে। আরো লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেই শূন্য পদ গুলি পূরণ করার জন্য কাউকে না পাওয়া গেলে সুস্থ মানুষদের দিয়ে পূরণ করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আইনে বলা হয়েছে শূন্য পদগুলি সক্ষম ব্যক্তিদের দ্বারা পূরণ করতে না পারলে খালি রাখতে হবে। এভাবেই আইন লঙ্ঘন করছে বলে সরকার এবং দপ্তরের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলেন তিনি। দৃষ্টিহীনদের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে বলেন, আইনের রয়েছে রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক ভাতা থেকে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ ভাতা বেশি প্রদান করতে হবে দৃষ্টিহীনদের।

দুঃখের বিষয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পর্যন্ত মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন দৃষ্টিহীনদের ব্যাংকিং পরিষেবার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়ার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর হচ্ছে না ত্রিপুরা রাজ্যে। রাজ্যে ব্যাংকিং পরিষেবার ক্ষেত্রে দৃষ্টিহীনরা মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজ্যে ব্যাংকগুলির ব্রেইল এটিএম চালু করার জন্য নির্দেশ থাকলেও সেটা করা হচ্ছে না। কোন এটিএম -এর মধ্যে ব্রেইল সাইন এবং টকিং -এর ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি ব্যাংক গুলির মধ্যে সাইন্টিফিক রেম নেই। এগুলির দায়িত্ব স্বাধীন কমিশনারের। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাধীন কমিশনার না থাকার কারণে দারুন ভাবে বঞ্চিত দৃষ্টিহীনরা বলে অভিযোগ তুলেন সাংবাদিক সম্মেলনে। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য