স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১ আগস্ট : ভর্তি সংক্রান্ত বিষয় ঘিরে কলেজ দখল করলো বহিরাগতরা। তারপর কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে অধ্যক্ষার কক্ষে হামলা চালালো বহিরাগতদের নেতৃত্বে একদল ছাত্র। অসুস্থ হয়ে পড়লেন কলেজের এক অধ্যাপিকা। এই ঘটনা শুক্রবার স্বনামধন্য রামঠাকুর মহাবিদ্যালয়। এদিন সকাল থেকেই কলেজের মধ্যে যথারীতি পড়াশুনা শুরু হয়। অথচ একদল বহিরাগত উচ্ছৃঙ্খল যুবক আচমকাই এসে কলেজের ভেতর উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তাদের দাবি উচ্চশিক্ষা দপ্তর অধীন বিভিন্ন কলেজ গুলিতে যে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে সেটা বন্ধ রেখে তাদের মন পছন্দের ছেলে মেয়েকে সবার আগে কলেজের মধ্যে ভর্তি করাতে হবে।
কিন্তু সেই দাবি পূরণ করার জন্য ক্ষমতা নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে। গোটা প্রক্রিয়াটি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীন। স্বচ্ছ ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে প্রত্যেকটি মহাবিদ্যালয়ের মধ্যে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে চুনোপুঁটি নেতাদের কাছে নাম জমা করেছে কিছু স্থানীয় অভিভাবক। তাদের ছেলেমেয়েকে এই কলেজে ভর্তি করার সুযোগ দিতে হবে। তা নিয়েই ঝামেলা শুরু। এদিন কলেজের ভেতর এই উৎশৃংখল যুবকরা অধ্যক্ষের দরজায় লাথি এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে। একটা সময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে যে কলেজের অধ্যক্ষা পুলিশকে ফোন করতে বাধ্য হয়। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছিলেন। একজন অধ্যাপিকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনটাই জানান কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ পাপড়ি দাস সেনগুপ্ত। তিনি আরো বলেন, দপ্তর সূত্রে জানা গেছে সমস্ত ছাত্রছাত্রী কলেজে ভর্তি হতে পারবে। হয়তো মন পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।
কিন্তু কেউ বাদ যাবে না। কিন্তু স্থানীয় কিছু যুবক এসে তাদের মন পছন্দের ছেলেমেয়েকে আগে ভর্তি করানোর জন্য কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে রীতিমতো কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। নম্বরে ভিত্তিতে শিক্ষা দপ্তর যোগ্য ছাত্র-ছাত্রীদের আগে ভর্তি নিচ্ছে। তিনি এদিনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতর এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের মন পছন্দের ছেলে মেয়েকে হয়তো দপ্তর শেষ পর্যায়ে ভর্তি করানোর জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু এভাবেই জোর জবরদস্তি সরকারি কাজের উপর চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়। এদিকে যুব মোর্চার এক নেতা জানান, ৮ নং টাউন বড়দোয়ালী, ১৪ বাধার ঘাট এবং ১৮ সূর্যমনি নগর বিধানসভা কেন্দ্রের যুব মোর্চার একটি প্রতিনিধি দল কলেজের অধ্যক্ষের সাথে দেখা করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যাতে না হয় এবং প্রত্যেককে কলেজে ভর্তি করার জন্য বন্দোবস্ত করে দিতে অধ্যক্ষার সাথে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন বিষয়টি দেখবেন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এডি নগর থানার পুলিশ। কলেজ চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও টি এস আর বাহিনী।

