স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৩ জুন : সোমবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরাকে পূর্ণ স্বাক্ষর রাজ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন ত্রিপুরার সাক্ষরতার হার হয়েছে ৯৫.৬ শতাংশ। যা ভারতের পূর্ণ সাক্ষরতার সংজ্ঞা অনুযায়ী এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রেখে বলেন, ২০২২ সালের পহেলা আগস্ট সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছিল। সাক্ষরতা এখন আর নাম, স্বাক্ষরে সীমিত উপাধি নয়।
সাধারণ গণিত, ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সাক্ষরতায় ভারত আজ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কার্যকর সাক্ষরতায় দিশায় এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৬১ সালে ত্রিপুরার স্বাক্ষরতার হার ছিল ২০.২৪ শতাংশ, আজ তা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৬ শতাংশ। তাই এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ ত্রিপুরা দেশের তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা হয়। এটা একটা সামাজিক আন্দোলন। সাক্ষরতা বৃদ্ধি করতে গেলে শুধু মাত্র শিক্ষকদের উপর দায়িত্ব দিলে চলবে না। সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সাক্ষরতা বৃদ্ধি পাবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে যে বিকশিত ভারতের সংকল্প গ্রহণ করেছেন সেটা বাস্তবায়ন হবে দেশের সাক্ষরতা বৃদ্ধি পেলেই। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ শে জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নয়া জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ -র তৃতীয় বর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে উল্লাস ওয়ান -এর লোগো উন্মোচিত করেন। তিনি স্লোগান দিয়েছিলেন জনজন স্বাক্ষর এবং মোবাইল অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জিএসডিপি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে আছে। এটা রাজ্যের জন্য বড় প্রাপ্তি। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গোটা দেশবাসীকে বলছেন ত্রিপুরায় গিয়ে দেখার জন্য কিভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। বর্তমান রাজ্য সরকার আরো বেশি কাজ করার জন্য উৎসাহিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান শেষে বলেন নব স্বাক্ষরদের মধ্যে আগামীদিন আরও বেশি দক্ষতা বাড়বে, আত্মনির্ভরতা বাড়বে এবং স্বপ্ন দেখার সুযোগ বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন উল্লাস নবভারত সাক্ষরতা কার্যক্রমে ৯৪৩ টি সামাজিক চেতনা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী এই বিভিন্ন স্টল গুলি পরিদর্শনের পর প্রশংসা করেন। আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রেবেল হেমেন্দ্র এবং অধিকর্তা এন সি শর্মা। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন।

