স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৯ জুন : ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলো গ্রামবাসীর। বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনে সামিল হলো তারা। ঘটনা খোয়াই আশারাম বাড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে এ ডি সির বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের আই এস। শেষে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত করার পর তালা খুলে দেয়। এলাকাবাসীরা জানায়, আশারামবাড়ী দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়টিতে প্রাথমিক বিভাগে ১১২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চার জন। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে বি এলও পদে নিযুক্ত করে রাখায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় তিন জনে।
এই তিনজনের মধ্যে আরও একজন শিক্ষককে বদলি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে গ্রামের মানুষজন। শেষে গ্রামের শতাধিক মানুষজন বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের শিক্ষকদের স্কুলের মধ্যে রেখেই তালা ঝুলিয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। এই বিষয়ে স্কুলের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বুধবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক মধুসূদন দাসকে উদনা এসবি স্কুলে ডেপুটেশনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১১২ জন। এত কম শিক্ষক যারা বিদ্যালয় পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তিনজন শিক্ষক রয়েছে। এরমধ্যে একজন দিব্যাঙ্গনজন। তিনি আরো জানান বর্তমানে বিদ্যালয়ে যে তিনজন শিক্ষক রয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ গ্যাজুয়েট শিক্ষক নেই।
অথচ বিদ্যালয়টি ইংরেজি মাধ্যম করা হয়েছে। এই অবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করানো খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুণগত শিক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রদান করতে চাইলে দপ্তরের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।এদিকে বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান মনিন্দ্র চন্দ্র দেব জানান, বহুবার দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে জানানো হয়েছে বিদ্যালয়ে শিক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং দেখা গেছে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষককে খোয়াই বি এল ও -র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে তিনি সঠিকভাবে ক্লাস করাতে পারেন না। এমন অবস্থায় কারণে বিদ্যালয়ের পড়াশোনা সঠিকভাবে হচ্ছে না। তাই অভিভাবকরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। অভিভাবকদের পাশে আছেন বলে জানান তিনি। এখন দেখার বিষয় এই বিদ্যালয়ের দিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নজর পড়ে কিনা।

