স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১২ মে : সুশাসন জামানায় অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন এবং রাষ্ট্রবাদী দল। এমনটাই ঘটনার সামনে উঠে আসলো মঙ্গলবার। আগরতলা পুর নিগমের ১২ নং ওয়ার্ডের কর্পুরেটর সান্তনা দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ৬ আগরতলা বিধানসভার কেন্দ্রের মন্ডল সম্পাদিকা পায়েল দাস। তিনি আগরতলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন গত বছর ২৩ আগস্ট ১২ নং ওয়ার্ডের কর্পোরেটর সান্তনা সাহার সঙ্গে বন্যার ত্রান বিতরণ নিয়ে ঝামেলা বেধেছিল। তারপর বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের অবগত করার পর তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়, ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা দায়ের করেন পায়েল দাস।
তারপর বিজেপির সদর জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য পায়েল দাসকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গোটা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন। আশ্বস্ত করেন তিনি বিষয়টি দেখবেন। তারপর দলের নির্দেশ অনুযায়ী ঘটনার দশ দিন পর পায়েল ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য পদ গ্রহণ করেন। অথচ রাষ্ট্রবাদী দলের সঙ্গে থানা পুলিশ সব কিছুই চুপ হয়ে যায়। পরবর্তী সময় চলতি বছর ২৯ মার্চ বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্ডল কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সেরে তিনি বাড়ি ফেরার সময় বুথ সভাপতি রাকেশ দেব উনাকে ফোন করেন। তখন তিনি ফোন রিসিভ করতে পারেননি। বাড়ি ফেরার পর সুমন চক্রবর্তী নামে এক যুবক পায়েলের বাড়িতে যায়। সুমন চক্রবর্তী নামে সেই যুবক বলে বৈঠকে অংশ নিতে এসে কর্পোরেটর সান্তনা সাহা মন্ডল কার্যালয়ে মোবাইল ফোন ফেলে গেছে। পরবর্তী সময় সুমন দাস নামে সেই যুবকের হাতে চাবি তুলে দেওয়া হলে তিনি জানিয়ে দেন পায়েল দাস। মন্ডল কার্যালয়ে এসে মোবাইল ফোন না পেয়ে থানায় অভিযোগ জানান কর্পোরেটর সান্তনা সাহা। এবং মোবাইল ফোন নিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ করেন মন্ডল সম্পাদিকা পায়েল দাসের বিরুদ্ধে। তারপর পুলিশ ডেকে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশের মুখোমুখি হয়ে জবাবদিহি হন। এ বিষয়ে আবার দলীয় নেতৃত্বদের কাছে জানান পায়েল। পায়েলকে অস্বস্ত করা হয় সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে। এরমধ্যে গত সোমবার পায়েলের বাড়িতে একটি নোটিশ আসে আগামী ১৯ মে ১০ হাজার টাকার জমিন সহকারে আদালতে হাজির হন। এই ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত বলে জানান মন্ডল সম্পাদিকা। তিনি আরো বলেন তাকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন এই কর্পোরেটরের স্বামী। অভিযুক্ত কর্পোরেটরের স্বামীর কাছে পিস্তল আছে। এখন প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য এই ঘটনার পর, ইমেজ নষ্ট হয়েছে শাসক দলের। দলের অন্তরে নেতৃত্বের মধ্যে এ ধরনের দ্বন্দ্ব হয়তো সহজে দেখা যায় না। তাও আবার কংগ্রেসের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের বিধানসভা কেন্দ্রে এই ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

