স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৫ জুলাই : সম্প্রতি খোয়াই জেলা হাসপাতালে সিজার করতে গিয়ে চিকিৎসকের হাতে অকালে প্রাণ গেল এক প্রসূতি মায়ের। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত রোগীকে অক্সিজেন লাগিয়ে রেফার করে দেন জিবি হাসপাতালে। মৃত প্রসূতি মায়ের অকালে মৃত্যু হলো তার নাম সম্পৃকা দেববর্মা। বয়স ২৩ বছর। স্বামী বিশ্বজিত দেববর্মা। তার বাড়ি প্রেম সিং উরাং। এডিসি ভিলেজের গোবিন্দ সেনাপতি পাড়ার বাসিন্দা।
মৃত প্রসূতি মায়ের স্বামী বিশ্বজিৎ দেববর্মা অভিযোগ, খোয়াই জেলা হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অমূল্য দেববর্মা স্ত্রীর গর্ভধারণের জন্য চিকিৎসা করে আসছিলেন। গত ১৭ জুলাই তিনি স্ত্রীকে সন্তান প্রসবের জন্য খোয়াই জেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়। ২১ জুলাই সন্ধ্যে ৬ টায় তরুণী গৃহবধুর কন্যা সন্তান হয়। প্রসবের পর থেকেই প্রসূতি মায়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। এ বিষয়টি চিকিৎসকরা রোগীর পরিবারকে অবগত করেনি। সময় যত গড়াতে থাকে ততই প্রসূতি মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে থাকে। ২২ জুলাই ভোরে এই প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা স্বামী বিশ্বজিত দেববর্মাকে ডেকে এনে জানিয়ে দেন স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। স্বামী বিশ্বজিত দেববর্মা এই কথা শোনার পর স্ত্রীকে দেখার জন্য অনুমতি চাইলে কর্মরত নার্সরা উনাকে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেননি বলে অভিযোগ। বিশ্বজিৎ দেববর্মা জানান, ২২ জুলাই ভোর ছয়টায় ১০২ নং অ্যাম্বুলেন্স করে মৃত স্ত্রী সহ শিশুকন্যাটিকে জিবি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গাড়িতে তোলার পর তিনি দেখতে পান স্ত্রীর মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে শুকিয়ে আছে। সকাল সাড়ে সাতটায় জিবি হাসপাতালে পৌঁছার পর চিকিৎসক জানিয়ে দেন তার স্ত্রী মৃত।
পরে মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর বিশ্বজিত দেববর্মার হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২২ জুলাই বিকেলে মৃতদেহটি বিশ্বজিত দেববর্মার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই ঘটনার জন্য খোয়াই জেলা হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অমূল্য দেববর্মাকে দায়ী করছেন। এদিকে ২২ জুলাই দুপুরে জিবি হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পর ওই গৃহবধূর মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেবার খবর পেয়ে শ্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অমূল্য দেববর্মা হঠাৎ ছুটি নিয়ে আগরতলায় চলে যান বলে অভিযোগ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অমূল্য দেববর্মাকে ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যায় নি। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। বিশ্বজিত দেববর্মা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে যেন তদন্ত করেন। এদিকে চিকিৎসক অমূল্য দেববর্মা জানান, সার্জারি সফল হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা জন্য চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করার পরে সুস্থ হয়ে না উঠায় গৃহবধূকে রেফার করা হয়েছিল জিবি হাসপাতালে। রাস্তায় মৃত্যু হয়েছে গৃহবধুর। মৃত গৃহবধূর পরিবার দাবি সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য। না হলে এইভাবে আরও বহু গৃহবধূ অকালে ঝরে যাবে।

