স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১০ জুলাই : সাধারণ মানুষের টাকা প্রতিনিয়ত আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠছে রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা মাইক্রোফিনান্স সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। এ সংস্থাগুলির অন্যতম কৌশল হলো ঋণ নেওয়ার সময় যে সুদ গ্রহণ করা হবে বলা হয় তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে সুদ দিয়ে ঋণ মেটাতে হয় ঋণ গ্রহণ করা গ্রাহকদের। এবং ঋণ পুরোপুরিভাবে পরিশোধ করার সময়ও অতিরিক্ত লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করছে মাইক্রো ফাইন্যান্সের কর্মীরা। এবার অভিযোগ উঠেছে উজ্জীবন মাইক্রো ফাইন্যান্সের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে।
ঘটনা রাজধানীর সেন্ট্রাল রোড স্থিত উজ্জীবন স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকের দুইজন কর্মীর বিরুদ্ধে। প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক ব্যবসায়ী। তিনি মেলাঘরের জুমের ঢেপার বাসিন্দা। নাম নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ। তিনি উজ্জীবন মাইক্রো ফাইনান্স দুই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ৮৫ লক্ষ টাকার সিসি একাউন্ট নিয়ে ঘোটালা করছে। বিষয়টি টের পাওয়ার পর তিনি চেয়েছেন তার সিসি একাউন্ট ক্লোজ করার জন্য। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মীরা তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ চাইছে। এবং তালবাহানা করছে। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে পশ্চিম থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক জানান, স্বনির্ভর হওয়ার জন্য ৮৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন উজ্জীবন সংস্থা থেকে। কিন্তু ঋণ নিয়ে এখন তিনি বেকাদায় পড়েছেন। ৭.২ শতাংশ হারে সুদ গ্রহণ করার কথা থাকলে সাড়ে ১১ থেকে ১২ শতাংশ হারে সুদ গ্রহণ করা হচ্ছে। তার কাছে চাওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এবং সমস্ত কাগজপত্র আটকে রেখে ঋণ পরিশোধ করতে দিচ্ছে না। অবশেষে আগরতলা তিনি ছুটে এসেছেন। আগরতলা এসেও জানতে পারেন যখনই ঋণ পরিশোধ করবে তখনই অতিরিক্ত ৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা দিলেই ঋণ পরিশোধ হবে। নাহলে ঋণের টাকা সুদ সহ মিটিয়ে দেওয়া হলেও পরিশোধ হবে না। লুটেপুটে খাচ্ছে এই সংস্থাগুলি। এদিন আগরতলা শাখায় এসে তিনি চাক্ষুষ করেন মেলাঘর ও উদয়পুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে তাদের এ ধরনের লুটপাটের কথা সংস্থার উদ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করছে। কিন্তু কোন রকম সদুত্তর মিলছে না। এখন দেখার বিষয় পুলিশ প্রশাসন কি ভূমিকা গ্রহণ করে। আর এই সুযোগে বারোটা বেজে যাচ্ছে সরকারের স্বনির্ভর হওয়ার স্লোগান। এবং এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও অহরহ অভিযোগ উঠলেও তদন্ত করচ্ছে না সরকার।

