স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১০ জুলাই : চরম উদাসীনতার কারণে মাতাবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপ সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ অস্তিত্ব সংকটে। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় পূর্ণ্যার্থীরা। জানা যায়, ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গনে কল্যাণ সাগরের কচ্ছপ প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো। কিন্তু আজ এই কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকটের মুখে। যার প্রজনন দীঘির আশপাশ এলাকার কোন গৃহস্থের বাড়িতে।
আর সবই হচ্ছে কল্যাণ সাগরের কচ্ছপের প্রজননের পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে। মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের উন্নয়ন ঘটাতে এবং কল্যাণসাগরের শ্রীবৃদ্ধি করার জন্য দিঘির বাঁধ সিমেন্ট ও কংক্রিটের সিঁড়ি বানানো হয়েছে। তৎকালীন মন্দির উন্নয়ন কমিটির মান্যগণ্যকর্তা ব্যক্তিরা ভুলেই গেছেন কল্যাণসাগরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি কচ্ছপের কথা। যারা মাটি ও বালি ছাড়া চলাচল করতে পারে না এবং ডিম ও প্রজনন করতে পারে না যার ফলস্বরূপ ওই তৎকালীন সময়ে একসঙ্গে প্রায় অনেক কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। আর তা সবই হয়েছে দীর্ঘ বাম জামানায় মাতারবাড়ি উন্নয়ন কমিটির ধারক ও বাহকদের দৌলতে। দীর্ঘ ২৫ বছরে বাম সরকার মাতাবাড়ি কল্যাণ সাগরের ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের এতোটুকু উন্নতি সাধন করতে পারেননি বলে অভিমত মাতাবাড়ি এলাকার প্রবীন নাগরিকদের।
যদিও বা কিছু করেছেন তা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যার জলন্ততো কিছু চিত্র এখনো মাতাবাড়ির পূর্ব পাড়ে ও দক্ষিণ পাড়ে গেলে দেখতে পাওয়া যায়। তৎকালীন সময়ে মাতাবাড়ি উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে কচ্ছপের প্রজননের জন্য কিছু হ্যাচারি তৈরি করা হয় কল্যাণ সাগরের সিঁড়ি ভেঙ্গে কৃত্রিম উপায়ে বালি ও মাটি দিয়ে কচ্ছপের প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়। তৎকালীন কর্তা ব্যক্তিরা হ্যাচারি তৈরি করেছেন সিমেন্টে ও কংক্রিটের পলেস্তারা না তোলায় তার জন্য কচ্ছপ সেই হ্যাচারিতে যায়নি। অর্থাৎ বলা যায় ওই সময় থেকেই মাতাবাড়ি ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকটের পথে ছিল। ২০১৫ – ২০১৬ সালে মাতাবাড়ি ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের সংকটের অস্তিত্ব নিরসনে হাইকোর্ট কল্যাণসাগরের দিঘির পাড়ের সিঁড়ি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। তৎকালীন মাতারবাড়ি উন্নয়ন কমিটি হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট দেখিয়ে কল্যাণসাগরের পূর্ব পাড়ের কিছুটা সিঁড়ি ভেঙে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিমত বুদ্ধিজীবী মহলের। কিন্তু বর্তমানে মাতাবাড়িতে আগত দর্শনার্থীদের ধর্মীয় ভাবাবেগ বরাবরই ব্যাঘাত ঘটছে। মাতাবাড়ি এলাকার এক প্রবীণ বৃদ্ধের মতে ২০১৮ সালে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পুণ্যার্থীরা ভেবেছিল এবার বোধহয় মাতাবাড়ির কচ্ছপের অস্তিত্বের সংকট নিরসনে কিছু একটা করা হবে। কিন্তু হয়নি সমস্যা সমাধান। তাইতো কচ্ছপ তার ডিম পাড়ার জন্য কল্যাণ সাগরের জল ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে ডিম পারছে। রাজপথে দেখা যাচ্ছে কচ্ছপ ও তার সঙ্গে ৫-৬ টা বাচ্চা। যার চোখে পড়ছে সবাই তাদেরকে ধরে এনে আবার পুনরায় কল্যাণসাগরে ছেড়ে দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রে বর্তমান মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অভিষেক দেবরায়ও এক কদম এগিয়ে। উনাকেও দেখা গেছে কিছুদিন পূর্বে একটি বালতিতে করে সাত থেকে আটটি কচ্ছপের বাচ্চাকে কল্যাণ সাগরে ছেড়ে দিতে। তিনি বলছেন মন্দিরের আশপাশের রাজপথে কচ্ছপের কচ্ছপ ও তার বাচ্চাগুলোকে পাওয়া গেছে তাই তিনি খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছেন। এবং এগুলি উদ্ধার করে মাতাবাড়ি কল্যাণসাগরে ছেড়ে দিয়েছেন। গত এক দুই মাসে প্রচন্ড খরার ফলে কল্যাণ সাগরের জল প্রায় শুকিয়ে অনেকটা নিচে নেমে গেছে। জলের উপর থেকে নিচের দিকে দেখলে অনেক পুরনো কচ্ছপ দেখা গেছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো বলেন কল্যাণ সাগরের পাড় কচ্ছপের প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে পর্যাপ্ত নয়। তাইতো কচ্ছপের ডিম ও বাচ্চা মানুষের বাড়ি ঘরের ও রাজপথে দেখা যায়। কিন্তু মাতাবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকট নিরসনে আজও কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিমত সাধারণ মানুষের। মাতাবাড়ি ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকটের মূল কারণ হিসেবে জানা যায় কচ্ছপদের পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারের অভাব, কল্যাণ সাগরের অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন। কচ্ছপের প্রজননের জন্য হ্যাচারী, তাদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত বালি ও মাটির অভাবও রয়েছে। খাবারের অভাব কেন বলছি কচ্ছপের খাবার হচ্ছে মাংস।
মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছেন কচ্ছপের জন্য মাংস দেওয়া হয়। কিরকম দেওয়া হয় তার বৃত্তান্ত হচ্ছে প্রতিদিন সরকারিভাবে একটি পাঠাবলি হয়। যার ওজন ছয় থেকে সাত কেজি হবে। যার বেশির ভাগটা প্রসাদ হিসেবে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। আর যতটুকু বাঁচে সেগুলি কচ্ছপদের ভাগ্যে জোটে যা পর্যাপ্ত নয়। এক প্রকার বাধ্য হয়েই দর্শনার্থীদের দেওয়া বিস্কুট আহার করে। যাইহোক অবশেষে বলা যায় বাম কিংবা রাম কোন আমলেই মাতাবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের এতোটুকু উন্নতি সাধন ঘটেনি। সুতরাং মাতাবাড়ি কল্যাণ সাগরের ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের অস্তিত্ব আজ চরম সংকটে। মাতাবাড়ি মন্দির ট্রাস্টের কাছে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের দাবি যাতে করে মাতাবাড়ি ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকট নিরসনে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

