বাড়িরাজ্যখবর প্রকাশ আসতেই সতর্ক করা হলো দুই ডোমকে

খবর প্রকাশ আসতেই সতর্ক করা হলো দুই ডোমকে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৫ এপ্রিল : সবকিছু জেনে শুনে হাত-পা গুটিয়ে বসেছিলেন বিধায়ক থেকে শুরু করে মহকুমা প্রশাসন। আর খবর প্রকাশ হতেই নিজেদের মান ইজ্জত বাঁচাতে দৌড় ঝাপ শুরু করলেন সকলে। চাওয়া হলো ডোমেদের কাছে কৈফিয়ৎ। শেষ পর্যন্ত ল্যাজ সোজা হলো দুই ডোমের। উল্লেখ্য, সোমবার বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে অমানবিক ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন গোটা রাজ্যবাসী। রবিবার রাতে পারিবারিক ঝামেলাকে কেন্দ্র করে ঘনিয়ামারা এলাকায় আত্মহত্যা করে নেহাল চন্দ্রনগর বাজারের ব্যবসায়ী বিষ্ণু ঘোষ।

পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষ্ণু ঘোষকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপর মৃতদেহ বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। যথারীতি আইন অনুসারে সোমবার বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তনিষ্ঠা চৌধুরীর উপস্থিতিতে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে মর্গে বিষ্ণু ঘোষের ময়না তদন্ত করা হয়। আর তারপরেই চলে ডোমের অমানবিক অত্যাচার। পরিবারের কাছে ৩০০০ টাকা দাবি করে বসেন ডোমের দায়িত্বে থাকা অনন্ত দাস ও তার ছেলে। মৃতের পরিবার আর্থিক অক্ষমতা প্রকাশ করলে ডোম অনন্ত দাস মর্গের দরজায় তালা দিয়ে রাখেন। অবশেষে প্রতিবেশী এবং পুলিশের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ১,৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মৃতদেহ পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। যা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অমানবিক। এই খবর প্রকাশ্যে আসারর পর  নড়েচড়ে বসে বিধায়ক সহ মহকুমা শাসক, মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিশালগড় পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার এসডিএমও জ্যোতির্ময় দাসের অফিস কক্ষে ছুটে যান বিধায়ক। ডাকা হয় ডোম অনন্ত দাস সহ মৃত পরিবারকে।

 বিধায়ক ডোম অনন্ত দাস ও তার ছেলেকে দ্বিতীয়বার যেন হাত না পাতেন তার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো হাসপাতালের এই ঘটনার সম্পর্কে কেউই অবগত নয় বলে আধিকারিকরা ভ্যান করেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হাসপাতালে আধিকারিক হাসপাতালে থেকেও দুই ডোমের এভাবে হাত পাতার সম্পর্কে জানেনা বলে জানান। সুতরাং হাসপাতালে থেকো তিনি হাসপাতালে মধ্যে কি ঘটছে তার খবরা-খবর রাখেন না। রাজ্যের অধিকাংশ হাসপাতালের মর্গে এ ধরনের ডোমরাজ চলছে। খবরে কোর্টে আসলেই সক্রিয় হয় প্রশাসন, নাহলে শববাহী গাড়ি দাঁড় করিয়ে এ ধরনের অমানবিক লীলা চলে মর্গের সামনে। বিশালগড় মহকুমা শাসক বিনয় ভূষণ দাস বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক অত্যাচারের জন্য মৃত পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হন।  পাশাপাশি বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্ত করার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয় এবং কোনরকম যেন এই অমানবিক ঘটনা বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে না ঘটে সে বিষয়ে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতির্ময় দাসকে শেষবারের মতো বারণ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় মৃত বিষ্ণু ঘোষের পরিবারকে। ডোম অনন্ত দাসের কাছ থেকে ১২০০ টাকা তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। এভাবেই দেওয়া হলো ধামাচাপা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য