আগরতলা, ২৪ নভেম্বর (হি.স.) : মিথ্যা মামলা করেছে কলকাতা পুলিশ। তাই আগামীকাল ২৫ নভেম্বর নারকেলডাঙ্গা থানায় হাজিরা দেওয়ার বদলে নোটিশের জবাবে চিঠি পাঠাবেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি সঞ্জয় মিশ্র। সশরীরে থানায় হাজিরা দেওয়ার পরিবর্তে ওই চিঠিই যথেষ্ট বলে দাবি করছেন তিনি।
তবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি-র বিরুদ্ধে মামলা প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, ত্রিপুরায় নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতৃত্ব ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপের জন্য পুলিশের মামলায় জড়িয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর ই-মেইল মারফত নারকেলডাঙ্গা পুলিশ ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক ভিএস যাদব, ত্রিপুরা পুলিশ এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে ওএসডি সঞ্জয় মিশ্রর উদ্দেশ্যে সিআরপিসি ধারা ৪১ অনুসারে নোটিশ পাঠিয়েছে। থানার সাব-ইন্সপেক্টর সৌমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ওই নোটিশটি প্রেরণ করেছেন। নোটিশ অনুসারে, নারকেলডাঙ্গা থানায় গত তিন নভেম্বর ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩বি, ২৬৮, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৫০০, ৫০৫(১)(বি) এবং দুর্যোগ মোকাবিলা আইনের ৫৪ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩২৩/২০২১। ওই মামলায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি সঞ্জয় মিশ্র-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ ২৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালেই হাজিরা দেওয়ার একটি নোটিশ সঞ্জয় মিশ্রের কাছে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি যদি তিনি বৃহস্পতিবার হাজিরা না দেন তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এ-বিষয়ে সঞ্জয়বাবু সাফ জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। তাই, আগামীকাল ২৫ নভেম্বর নারকেলডাঙ্গা থানায় হাজিরা দেওয়ার বদলে নোটিশের জবাবে চিঠি পাঠাবেন তিনি। সশরীরে থানায় হাজিরা দেওয়ার পরিবর্তে ওই চিঠিই যথেষ্ট বলে দাবি তাঁর।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি-কে মামলায় জড়িয়ে নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিহিংসামূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র করেও পার পেয়ে যাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ত্রিপুরা পুলিশের তৎপরতায় তাঁদের প্রত্যেককেই বেগ পেতে হয়েছে। আই-প্যাক ত্রিপুরায় শান্তির পরিবেশ নষ্ট করার নীলনকশা তৈরি করেছে। এতে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতারা সেই নকশা অনুসরণ করে তুলেছিলেন ত্রিপুরাকে। তবে, পুলিশি গতিবিধির জন্য এখনও ত্রিপুরা শান্ত রয়েছে। তাই এখন প্রত্যাঘাতে সঞ্জয় মিশ্রকে নিশানা হিসেবে বেছে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

