বাড়িরাজ্যএকাধিক দাবি উত্থাপন করে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিল এজিএমসি-র টিচার্স ফোরাম

একাধিক দাবি উত্থাপন করে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিল এজিএমসি-র টিচার্স ফোরাম

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ জুন : জিবি হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। তার বিনিময়ে এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকের বেতনের বেসিকের উপর ২০ শতাংশ এনপিএ প্রদানের ঘোষণা দেয়।

 সরকারের এই ঘোষণার পর এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালে কর্মরত ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। কারন এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকরা যখন চাকুরিতে যোগদান করে তখন তাদের বলা হয় নি তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে শনিবার এজিএমসি-র টিচার্স ফোরাম সকল সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসে। জানা যায় আলোচনায় ফোরামের বেশ কয়েকজন সদস্য সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এইদিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তপন মজুমদার জানান মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনাকালে ফোরামের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি জানানো হয়েছে। দাবি গুলির মধ্যে ছিল ২০ শতাংশ এনপিএ তাদের বেসিক বেতনের সাথে যুক্ত করে তার উপর ডিএ প্রদান করা হোক। এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকের পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নিতি চালু করা হোক। মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস রুলস সংশোধন করা হোক। এবং তাদের বেতনক্রম পুনঃবিবেচনা করা হোক। তিনি আরও জানান সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। হয়তো সরকার ভালো পরিষেবার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ওনারা মেনে নিয়েছেন।

প্রয়োজনে শনিবার থেকে তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেবেন। ডাক্তার তপন মজুমদারের মতে শুধুমাত্র ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করা সম্ভব নয়। চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মী। কিন্তু এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণে কর্মী সঙ্কট রয়েছে। সেই দিকেও নজর দিতে হবে। এইদিন রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর বক্তব্য ও স্বাস্থ্য সচিবের বক্তব্য নিয়ে ফোরামের বেশিরভাগ সদস্য যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তা ডাক্তার তপন মজুমদার ও ডাক্তার কনক চৌধুরীর বক্তব্যে উঠে আসে। তারা জানান স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন যারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেনা তারা চাইলে স্বেচ্ছায় চাকুরি ছারতে পাড়ে। স্বাস্থ্য সচিবের এই বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষ সকলের মধ্যে। কারন সকলের বক্তব্য তারা যখন চাকুরিতে যোগদান করে তখন তাদের বলা হয় নি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা যাবে না। ৩০ বছর চাকুরি করার পর আচমকা সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে এই ধরনের মন্তব্য অসম্মান জনক।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য