পাটনা, ৬ জুন (হি.স.) : জনপ্রিয় শিক্ষক ও কোচিং পরিচালনাকারী খান স্যারের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়েরের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। শনিবার তাঁর আইনজীবী অরবিন্দ কুমার মাভ্বর দাবি করেছেন, এই এফআইআর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে করা হয়েছে এবং খান স্যারকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
আইনজীবীর বক্তব্য, ২ জুন খান স্যারের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। তারই পাল্টা হিসেবে এই এফআইআর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন। এতে কেউ আহত হননি। কিন্তু এফআইআরের বয়ানে পরিকল্পিতভাবে খান স্যারের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বদনাম ও ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২ জুন রাতে পাটনার মুসাল্লাহপুর এলাকায় অবস্থিত খান গ্লোবাল স্টাডিজ ইনস্টিটিউট-এর বাইরে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী কোচিং সেন্টারে হামলা চালিয়ে পাথর ছোড়ে এবং ভাঙচুর করে। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খান স্যারের নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতেই কদমকুয়াঁ থানায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন যে তাঁদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারা এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন একটি ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে, যেখানে কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলিচালনার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এই ঘটনায় খান স্যারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দাবি করেছেন, নির্দেশ পেয়েই তিনি গুলি চালিয়েছিলেন। সেই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে হামলা ও গুলিচালনার ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের পরিচালক রৌশন আনন্দ-কে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জল্পনা চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। মামলার সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে সমস্ত তথ্য যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না তদন্তকারী সংস্থা।

