স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ জুন :সুশাসন জামানায় আবারও দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে বিরোধী দল কংগ্রেস। কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালের জন্য প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকার এফ.আর.ইউ -এর সরঞ্জাম ক্রয়কে কেন্দ্র করে গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে গোটা প্রক্রিয়া। বাধ্যতামূলক ই-টেন্ডারিংকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে এত বড় অঙ্কের সরকারি ক্রয় সম্পন্ন হল, কেনই বা কোনও বহুল প্রচারিত পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল না—এই প্রশ্নে সরব হয়েছে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস।
শনিবার কৈলাসহরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মিশন ডিরেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় জেলা কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ লক্ষ টাকার এই সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ই-টেন্ডার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। পরিবর্তে ফিজিক্যাল টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগরতলা ভিত্তিক একটি সংস্থাকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কেন গোপনীয়তার আবরণ তৈরি করা হল, তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিরাজিত সিনহা, জেলা কংগ্রেস সভাপতি বদরুজ্জামান এই প্রশ্ন তুলেছেন।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি বদরুজ্জামান অভিযোগ করেন, রাজ্যের অন্যান্য জেলায় একই ধরনের প্রকল্পে ই-টেন্ডার বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা হলেও কুমারঘাটের ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে ভিন্ন পথ অবলম্বন করা হয়েছে। যদি সবকিছু নিয়মমাফিক হয়ে থাকে, তাহলে ই-টেন্ডার এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কেন পড়ল? কেন সংবাদপত্রে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল না? কাকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই বা এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, সরকারি ক্রয়ের মূল ভিত্তি হল উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নীতিগুলোকেই কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে বহু যোগ্য সরবরাহকারী সংস্থা প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারে। জেলা কংগ্রেসের অভিযোগ, বিষয়টি শুধু একটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রশ্ন নয়; এটি সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন। তাই তারা অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান ক্রয় প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সরঞ্জাম ক্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।বদরুজ্জামান জানান, অভিযোগের অনুলিপি ঊনকোটি জেলার জেলা শাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে কংগ্রেস। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এনএইচএম বা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—৩৩ লক্ষ টাকার এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় সত্যিই কি নিয়ম ভাঙা হয়েছে, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য? এখন সেই উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষও।

