বাড়িরাজ্যমহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ বিধায়িকার

মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ বিধায়িকার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ জুন :তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল দশা। শনিবার আচমকাই হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়। আর সেখানে গিয়েই যেন অভিযোগের বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, হাসপাতালের ওটি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মী কোনও প্রকার অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে শৃঙ্খলার চরম অভাব ও প্রশাসনিক ব্যার্থতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় ঘটনাস্থল থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং গোটা বিষয়টি অবগত করান। পাশাপাশি তিনি জানান, বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার নজরেও আনা হবে। সংবাদমাধ্যমের সামনে অকপটে কল্যাণী সাহা রায় স্বীকার করেন, তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে কার্যত নৈরাজ্য চলছে। হাসপাতালের এল.ডি.সি প্রশান্ত সিনহা, চিকিৎসক সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মীর খামখেয়ালি উপস্থিতি নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে বিধায়িকা বলেন, অতীতে তিনি বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ব্যায় করে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছিলেন।

এছাড়াও আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের কাছে থাকার কথা। তারপরও যদি সংকট থেকে থাকে, তবে প্রয়োজনে পুনরায় বিধায়ক তহবিল কিংবা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাবস্থা করা হবে। শনিবারের এই আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতালের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। একদিকে হাসপাতালের উন্নয়নে বিধায়িকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, অন্যদিকে প্রশাসনিক অব্যাবস্থা ও কিছু কর্মীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ— সব মিলিয়ে প্রশ্নের মুখে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের বর্তমান পরিচালন ব্যাবস্থা। এদিন বিধায়িকা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালককে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন কি কারণে তিনি রোগীর পরিষেবা দেন না। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য শিবির গুলির মধ্যে এম্বুলেন্স চালিয়ে গিয়ে অফিস ডিউটি করে মোটা অংকের মাইনে গুনছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আরো বলেন এই এম্বুলেন্স চালক মোহনপুর থেকে পানিশমেন্ট বদলি হয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে গিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, বিধায়িকার কঠোর অবস্থানের পর স্বাস্থ্য দপ্তর আদৌ কোনও কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করে কিনা, নাকি অভিযোগের পাহাড়ের নিচেই চাপা পড়ে থাকবে তেলিয়ামুড়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য