বাড়িজাতীয়নেপালের গণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর শুভেচ্ছা না জানানো ঘিরে বিতর্ক

নেপালের গণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর শুভেচ্ছা না জানানো ঘিরে বিতর্ক

কাঠমান্ডু, ২৪ এপ্রিল (হি.স.): নেপালে শুক্রবার ২০–তম গণতন্ত্র দিবস পালন করছে। তবে এই বিশেষ দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং শাসক দলের শীর্ষ নেতা রবি লামিছানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বার্তা না আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা ও বিতর্ক।

নেপালে প্রতি বছর ২৪ এপ্রিল গণতন্ত্র দিবস পালন করা হয় ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের স্মরণে। ওই আন্দোলনের পর তৎকালীন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা হয়।

তৎকালীন সময়ে রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ ঘোষণা করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস নেপালের জনগণ এবং জনআন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে প্রতিনিধি সভা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্য দিয়েই দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরবর্তীতে গণআন্দোলনের পর প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে দুটি সংবিধান সভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত সংবিধান সভা ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নেপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে নতুন সংবিধান প্রদান করে। এর ফলে দেশটি পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল কাঠামোয় প্রবেশ করে।

এরপর থেকে নেপালে কেন্দ্র, প্রদেশ এবং স্থানীয় স্তরে দুই দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে দেশটি ফেডারেল ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্র, প্রদেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলে প্রশাসনিক মহল দাবি করেছে।

২০০৬ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন রাজতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের স্মরণে প্রতি বছর ২৪ এপ্রিল গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সাধারণত এই দিনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করা হয়। তবে এবছর শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা না আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য