বাড়িরাজ্যবাড়িঘর ছাড়া দলীয় কর্মী সমর্থকদের খোঁজ নিতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়ল বিজেপি...

বাড়িঘর ছাড়া দলীয় কর্মী সমর্থকদের খোঁজ নিতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়ল বিজেপি -র এক প্রতিনিধি দল

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ এপ্রিল : বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীরা। শরিকদলের সন্ত্রাসে আতঙ্কগ্রস্ত তারা। দলীয় নেতৃত্ব পাশে না দাঁড়ানোর কারণে মনোবল ভেঙে পড়েছে ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের। সোমবার ভগৎ সিং যুব আবাসে দলীয় কর্মীদের খবর নিতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়, প্রদেশ বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা।

উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল থেকে পাহাড়ে তিপরা মথার নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসে বাড়ি ঘর ছাড়া বহু পরিবার। আশ্রয় নিয়েছে রাজধানীর শহীদ ভগৎ সিং যুব আবাসে। তারা আশ্রয় নেওয়ার তিনদিন পর সোমবার ভগৎ সিং যুব আবাসে গেলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় সহ অন্যান্যরা।

তাঁরা ভিআইপি গাড়ি দিয়ে ভগৎ সিং যুব আবাসে প্রবেশ করতেই তাদের উপর আক্রমণ চালাতে আসে বাড়িঘর ছেড়ে ভগৎ সিং যুব আবাসে আশ্রয় নেওয়া অসহায় বিজেপি কর্মীরা। সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন বিজেপি নেতারা এতদিন কোথায় ছিলেন আপনারা? আমাদের বাড়িঘর আক্রান্ত! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ প্রশাসন। এর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে। পরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন বিজেপি নেতৃত্ব।

পরবর্তী সময়ে সংবাদ মাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ বিজেপি-র সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন পাহাড়ে যে সন্ত্রাস চলছে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে যারা বাড়িঘর ছেড়ে এখানে আছে তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিতাপের বিষয় হলো কেমন রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তৈরি করা হয়েছে যে থানসা থানসার উপর আক্রমণ করছে! তাদের এ ধরনের আচরণের স্পষ্ট জনজাতিদের বিকাশ চায় না তারা। তিনি বলেন, জাতি জনজাতি সকলকে নিয়েই সমৃদ্ধশালী ত্রিপুরা গড়ার জন্য কাজ করছে সরকার। তিনি আরো বলেন, গতকাল পার্লামেন্ট অধিবেশন থেকে রাজ্যে ফিরে সার্বিক পরিস্থিতি খোঁজখবর নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গার মধ্যে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের রক্ষা করছেন বিজেপি কর্মীরা। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি বলেন এই সন্ত্রাস তিপরা মথা করছে। এই সন্ত্রাসের পরিনাম কি হবে সেটা তারা ভাবতে পারেনা। পরে তারা গ্রেপ্তার হলে আবার রাস্তা অবরোধ করে! সুতরাং যারা অন্যায় করে এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় তারা সমদোষে দোষী বলে জানান তিনি। এখন দেখার বিষয় সরকার এবং দল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য