Saturday, March 14, 2026
বাড়িরাজ্যগণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনীতিতে যুবসমাজের অংশগ্রহণ অপরিহার্য: রতন লাল নাথ

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনীতিতে যুবসমাজের অংশগ্রহণ অপরিহার্য: রতন লাল নাথ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ মার্চ : যুব সমাজই আগামী দিনের দেশের নির্মাতা। সৎ ও শিক্ষিত মানুষের অংশগ্রহণ রাজনীতিতে না থাকলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে।

আজ ত্রিপুরা বিধানসভায় আয়োজিত রাজ্যস্তরের “বিকশিত ভারত যুব পার্লামেন্ট ২০২৬” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

মন্ত্রী বলেন, ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা উচিত।

তিনি বলেন ২০৪৭ এর মধ্যে আমারদের এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত  করতে হবে । হাতে আর মাত্র ২২ বছর সময় রয়েছে, তাই এখন থেকেই আমাদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। আমি এখানে শুধু বক্তৃতা দিতে আসিনি, বরং চিন্তা, সাহস এবং দায়িত্ববোধের আগুন জ্বালাতে এসেছি। স্বাধীনতা সংগ্রাম হোক বা সামাজিক সংস্কার সব ক্ষেত্রেই যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজও এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। আমাদের অনেক শত্রু রয়েছে, তবে প্রধান শত্রু হলো দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বৈষম্য। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই সমস্যাগুলি অনেকটাই কমেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। তবে গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; গণতন্ত্র মানে বিবেকের চর্চা, ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রাখা।

তিনি জানান আমাদের কাছে দেশই প্রথম। এটি স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, গৌতম বুদ্ধ এবং মহাত্মা গান্ধীর দেশ। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু কেউ যদি আমাদের দিকে আঙুল তোলে, তার জবাব কীভাবে দিতে হয় তা আমরা জানি, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামী প্রজন্মই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। উন্নয়ন শুধু জিডিপি বৃদ্ধি নয়; গ্রামের ছাত্রদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া, কৃষকদের আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করা এবং নারীদের সুরক্ষা দেওয়াও উন্নয়নের অংশ।

তিনি আরও বলেন, আজ ভারত বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী যুব জনসংখ্যার দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রধান শক্তি হলো মানবসম্পদ, যা বিশ্বের অন্য কোথাও এত সমৃদ্ধ নয়। এটি আমাদের দেশের জন্য এক বড় আশীর্বাদ। তবে যুবসমাজকে নৈতিকতা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং মানবিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। রাজনীতিতে সৎ ও শিক্ষিত মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। রাজনীতিকে ভয় পেয়ো না। আজকের যুবসমাজই আগামী দিনের দেশের নির্মাতা। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবকদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত ।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার-ইন-চার্জ রাম প্রসাদ পাল, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী টিংকু রায়, তফসিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, চিফ হুইপ কল্যাণী সাহা রায়, সমবায় মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া এবং বিধায়ক চিত্ত রঞ্জন দেববর্মা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য