Saturday, March 7, 2026
বাড়িরাজ্যত্রিপুরায় খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ১২%: কৃষিমন্ত্রী

ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ১২%: কৃষিমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।  ৬ মার্চ : গত বছরের তুলনায় এ বছর ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ১২% বেড়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে যুবকদের  অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেকেই সরাসরি সুবিধা অনুভব করছেন।

আজ প্রজ্ঞা ভবণে অনুষ্ঠিত ২০২৫–২৬ সালের রাজ্য স্তরের কৃষক মেলা ও রাজ্য ও জেলা স্তরের শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ এই কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষকদের আরও উৎপাদন, সংযোগ এবং রপ্তানির আহ্বান জানিয়েছেন। কেবল তখনই ভারত সত্যিকারের বিশ্ব গুরু হিসেবে প্রতিভাত হবে। আমাদের রাজ্যে কৃষকেরাই মূল ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর কাছে চারটি শ্রেণি রয়েছে  দরিদ্র, যুবক, নারী এবং কৃষক। যদি আমরা তাদের উন্নয়ন করি, তাহলে আর কিছু চাই না। কৃষি মানে শুধু চাষ নয়, এটি পশুপালন, বনায়ন, মৎস্যচাষ সবই অন্তর্ভুক্ত। আমাদের কৃষক যেকোনো কিছু করতে পারেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আমাদের রাজ্যে ৪.৭২ লাখ কৃষক রয়েছেন, আর মোট জনসংখ্যা ৪২.২২ লাখ। এই মেলা তাঁদের জন্য, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের জন্য খাদ্য জোগান দেয়। আমরা চাই আমাদের রাজ্যের জিডিএসপি আরও বৃদ্ধি পাক। কৃষকরা দেশের এবং রাজ্যের অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আমরা কৃষি খাতে উন্নয়নে জোর দিচ্ছি এবং সেক্টরের বিকাশে কাজ করছি।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ভারতকে বিশ্বের শস্য ভান্ডার হিসেবে গড়ার চেষ্টা করছেন।তিনি বলেন ত্রিপুরার কৃষক মেলা অন্যান্য মেলার থেকে ভিন্ন। আমাদের রাজ্যে ৬৫,৫৭,০০০ কানি জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৩০,১৭,০০০ কানি জমি চাষের জন্য ব্যবহার হচ্ছে এবং ১৫ লাখ কানি জমিতে শুধু ধান উৎপাদিত হচ্ছে। আমাদের সমতল জমি কম এবং বনাঞ্চল ও টিলা ভূমি বেশি। তাই আমরা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।

মন্ত্রী জানান, এ বছর সিপাহিজলা জেলা ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, এরপর দক্ষিণ ও গোমতী জেলা, এবং এবার খোওয়াই জেলা ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি জেলা হলো ধলাই , ঊনকোটি, উত্তর জেলা ও পশ্চিম জেলা।

তিনি আরও বলেন আমরা সমস্ত জেলা স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য কাজ করছি। আগে আমাদের মাত্র ২,০০০ হেক্টর অর্গানিক  চাষের আওতায় ছিল, কিন্তু গত সাত বছরে আমরা এটি ২৬,৫০০ হেক্টরে সম্প্রসারণ করেছি। জার্মানিতে আমাদের অর্গানিক  বার্ড আই চিলি, আদা, কালিখাশা চাল এবং হলুদের চাহিদা দেখা গেছে। এছাড়াও ন্যাচারাল ফার্মিং আমরা ৫,৫৫০ হেক্টর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যশস্য উৎপাদন ১২% বেড়েছে। ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে এবং যুবকরা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কৃষিতে অংশ নিচ্ছেন। যুবক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা সরাসরি সুফল পাচ্ছেন।

মন্ত্রী রাজ্যস্তরে ১০ জন কৃষককে ৫০,০০০ টাকা করে এবং জেলা স্তরে ৮০ জন কৃষককে ২৫,০০০ টাকা করে পুরস্কৃত করেন। পরে প্রায় ৩০০ জন কৃষককে ব্লক স্তরে ১০,০০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, উনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুশ্মিতা দাস, খোয়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় দত্ত, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, সিপাহিজলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়  এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, রাজ্য সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, কৃষি দপ্তরের ডিরেক্টর  ড. পি. বি. জামাতিয়া সহ অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য