স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ মার্চ :কদমতলা থেকে ধর্মনগর পর্যন্ত ২০৮ নম্বর বিকল্প জাতীয় সড়কে ওভারলোড পাথরবাহী ডাম্পারের অবাধ চলাচলের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের পর দিন অতিরিক্ত বোঝাই ডাম্পারের চাপে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে খানাখন্দে ভরা, কোথাও কোথাও পুকুরসম গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এই রাস্তায় চলাচল এখন কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে পথ চলার সামিল
। উল্লেখ্য, ধর্মনগর শহর ত্রিপুরার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। শহরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও ব্লকগুলির যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই বিকল্প জাতীয় সড়ক। অথচ ওভারলোড ডাম্পারের দৌরাত্মে সেই যোগাযোগ ব্যবস্থাই আজ ভেঙে পড়ার মুখে। শুকনো মরশুমে সারাদিন ধরে রাস্তাজুড়ে উড়ছে ধুলোর চাদর, যার ফলে পথচারী ও যানচালকদের নাভিশ্বাস উঠছে।সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীবাহী ইলেকট্রিক অটো চালকরা। ছোট আকারের এই যানবাহনগুলি বর্তমানে আর ঝুঁকি নিয়ে কদমতলা থেকে ধর্মনগর যাতায়াতে আগ্রহী নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে কদমতলা ট্রাফিক পয়েন্ট ও নতুনবাজার এলাকায় অটো চালকরা রাস্তা অবরোধ করে ওভারলোড ডাম্পার চলাচল বন্ধের দাবি তুলেছিলেন। সে সময় জেলা প্রশাসনের ডিসিএম ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা জারির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সোমবার রাত থেকেই ফের আন্দোলনে নামেন অটো চালকরা। কদমতলা ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ, পরে তাঁরা কর্মবিরতির ডাক দেন। চালকদের স্পষ্ট বক্তব্য—আগামী ৩ তারিখ, অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি ও পথ অবরোধ চলতে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রী, অফিসযাত্রী ও স্কুল পড়ুয়ারা। বহু মানুষকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে কিংবা বিকল্প পথে দীর্ঘ ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কদমতলা থানার পুলিশ ও ধর্মনগর মহকুমা শাসক অফিসের ডিসিএম। ডিসিএম অবরোধকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসে আশ্বাস দেন—আপাতত একদিন এই সড়ক দিয়ে ওভারলোড ডাম্পার চলাচল বন্ধ থাকবে। এক দিনের মধ্যে প্রশাসনিকভাবে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ধুলোবালির সমস্যা নিরসনে ডি ডাব্লিউ এস দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তায় জল দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ডিসিএমের এই আশ্বাসের পর দুপুর প্রায় একটা নাগাদ কর্মবিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। এক অটো চালক জানান, তাঁদের এই আন্দোলনে শুধু চালকরাই নন, বহু স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামিল হয়েছেন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রাতেই কদমতলা থানার পুলিশ চারটি ওভারলোড ডাম্পার আটক করে এবং প্রতিটি গাড়িকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা করে।

