স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ ফেব্রুয়ারি : সামনে চৈত্র মাস! ধার দেনা করে এতদিন ধরে রাস্তার পাশে ব্যবসা করছিলেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের পুনর্বাসন না দিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রতিদিন রাস্তায় নামতে শুরু করেছে ত্রিপল ইঞ্জিনের বুল ডোজার। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। শনিবার তেলিয়ামুড়া শহরে চলে পুর পরিষদের অভিযান।শনিবার সকাল থেকে তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের উদ্যোগেও শুরু হয় এই উচ্ছেদ অভিযান। শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় সরকারি ফুটপাত অবৈধভাবে জবরদখল করে গড়ে ওঠা ভেন্ডার লাইসেন্স বিহীন একাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ পথচলতি মানুষদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছিল।
জনগণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদ। প্রশাসনের বুলডোজার চালিয়ে অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাতের উপর গড়ে ওঠা একাধিক দোকান ও স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এই বিষয়ে অভিযানে উপস্থিত আধিকারিকরা সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ ছিলেন। এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের ডেপুটি সিইউ প্রদীপ কুমার সরকার, ডিসিএম বিশ্বজিৎ মজুমদার-সহ তেলিয়ামুড়া থানার বিপুল পুলিশ বাহিনী এবং সি আর পি এফ-এর জওয়ানরা। অভিযানের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র অসন্তোষ। তবে রাস্তার পাশে স্থায়ীভাবে যেসব ব্যবসায়ী দোকান ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তাঘাটে সাইনবোর্ড কিংবা সরঞ্জাম রেখে ব্যবসা করে আসছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আগে থেকেই পথচারীদের কাছ থেকে উঠে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সুবিধাবাদীরা শহরের রাস্তা দখল করে ব্যবসা করে আসছে। এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে তেলিয়ামুড়া শহরজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আগরতলা শহরে গত বুধবার রাত থেকে যে অভিযান চালানো হয়েছে, তা কতটা কাজে এসেছে সেটাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফুটপাত পুনরায় দখল করেছে সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী মহল। নিগমের কর্মযজ্ঞ সাময়িক সেটা আবারো প্রমাণ করেছে।

