স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ ফেব্রুয়ারি : নেশার করিডোর হয়ে উঠেছে রাজ্য। নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার স্লোগান নিয়ে প্রশাসন লাগাম টানার চেষ্টা করলেও, হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। একদিকে যেমন গাঁজা চাষ, অপরদিকে এসকফ সিরাপ বহিঃ রাজ্য থেকে পাচার হচ্ছে। এনডিপিএস ধারা অনুযায়ী মামলা হাতে নিয়ে তদন্ত করলেও মূল শিকড়ে গিয়ে পৌঁছাতে পারছে না পুলিশ। কারণ গোড়ায় গলদ পুলিশের তদন্তে বেশি দূর এগোতে দিচ্ছে না। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে বোধজংনগর থানাধীন রাজচন্তায় এলাকায় ৮ থেকে ১০ টি গাঁজা প্লট ধ্বংস করে পুলিশ। এসডিপিও সুব্রত বর্মন জানান, পুলিশ গোপন খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালিয়েছে।
মোট আট থেকে দশটি প্লটে গাঁজা চাষ করছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছগুলি কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অপরদিকে পশ্চিম চাম্পামুড়া এলাকায় সুভাষ চন্দ্র দাসের বাড়িতে অভিযান চালায় পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ ও কলেজটিলা ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশের এদিন মোট পাঁচ শতাধিক বোতল এসকফ সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে আটক করে সুভাষ চন্দ্র দাস এবং সমীর দাস নামে দুজনকে। তাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস ধারা অনুযায়ী মামলা হাতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানায়, অটো গাড়ি দিয়ে এসকফ সিরাপ গুলি বাড়িতে দিয়ে গেছে।
সন্ধ্যার সময় আবার পাচার হবে। এগুলি বহিঃ রাজ্য থেকে আনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যার কালোবাজারি মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা। তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হয় শুক্রবার। অভিযুক্ত দুজন স্বীকার করেছে তারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম পুলিশ জানতে পেরেছে। অপরদিকে, কমলপুর থানার অন্তর্গত দুর্গা চৌমুহনি নাকা পয়েন্টে একটি টাটা এইস গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গোপন চেম্বার থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার শুকনো গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। এই গাড়ি দিয়ে অভিনব কায়দায় পাচারকারীরা পরিকল্পিতভাবে গাড়িটির নিচে গোপন চেম্বার তৈরি করে পাচারকালে প্রায় ৪২ টি প্যাকেটে ১০৫ কেজি শুকনো গাজা সহ দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গাঁজার কালোবাজারি মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গাড়িটির নম্বর TR 05 B 1775 । ফেন্সি কান্ডে বড়সড় রাঘববোয়ালদের জালে তুলতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সহযোগিতা নিতে হবে বলে মনে করছে অনেকে।

