স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৫ জানুয়ারি : নাসার ইতিহাসে এই প্রথমবার। জরুরি চিকিৎসার জন্য তড়িঘড়ি মহাকাশ থেকে ফেরানো হল চার নভশ্চরকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেই অপারেশনে সাফল্য পেল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। অপারেশনের খুঁটিনাটি নিয়ে এই মুহূর্তে নাসার বিজ্ঞানীরা বিশেষ মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে মসৃণভাবে মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে নিরাপদে চারজনের ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁরা। ফিরে আসা দুই নাসার বিজ্ঞানী, এক জাপানি ও একজন রুশ নভশ্চরের সকলের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে নাসা। আপাতত তাঁদের চিকিৎসা চলবে। তারপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন চার নভশ্চর।
সপ্তাহ খানেক আগেই নাসা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টেলিমেডিসিন কিংবা আইএসেএসে মজুত থাকা ওষুধপত্র কাজ করছে না। ফলে একটাই উপায়। পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা করা। অসুস্থদের তালিকায় নাসার দুই বিজ্ঞানী জেনা কার্ডম্যান, মাইক ফিঞ্চ ছাড়াও রয়েছেন জাক্সা অর্থাৎ জাপানি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানী কিমিয়া উই এবং রাশিয়ার রসকসমসের ওলেগ প্লান্টোনভ। ওইদিনই নাসা সিদ্ধান্ত নেয় তাঁদের ফিরিয়ে আনার। সেইমতো অপারেশন শুরু হয়। সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া লাগোয়া প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এসে নামে স্পেসশিপ এন্ডেভার। নাসার বর্তমান প্রশাসক জারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, গুরুত্ব সহকারে ফিরে আসা নভশ্চরদের চিকিৎসা চলবে।
আগে এমন বহু ঘটনাই ঘটেছে, যেখানে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার যাত্রাপথ মসৃণ হয়নি। কখনও স্পেসশিপ অবতরণের সময়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহাকাশচারীদের। কখনও আবার আবহাওয়ার কারণে যাত্রা পিছিয়ে দিতে হয়েছে অথবা অবতরণের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। আর সেখানেই নাসার এই মিশনের বড় সাফল্য। একেবারে বিজ্ঞানীদের হিসেবনিকেশ অনুযায়ী অপারেশন চলেছে। এনিয়ে নাসার সংক্ষিপ্ত বার্তা, ”মহাকাশে বিপদের শেষ নেই। কিন্তু আমাদের মেডিক্যাল সিস্টেমও বেশ শক্তিশালী, জোরদার।”

