স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ জানুয়ারি : ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ আগেও একাধিকবার খবরের শিরোনাম দখল করেছে। কিন্তু এবার মাতৃ শক্তি আক্রান্ত হল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগ, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শ্যামল দাসের হাতে আক্রান্ত এক মহিলা কর্মী। তারপর উপাচার্যের কক্ষের সামনে বিক্ষোভে শামিল হয় ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীরা। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ জন আউটসোর্সিং কর্মীদের ১০ থেকে ১২ বছর ধরে একই বেতনে চাকরি করে যেতে হচ্ছে।
এর মধ্যে পূর্বের রেজিস্টার দীপক শর্মা এবং উপাচার্য দুজনের যোগ সাজানে গত ২ জানুয়ারি নতুন করে দু তিনজন এম.আর.ডব্লিউ কর্মী হিসেবে নিয়োগ হয় ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই কর্মীর নিয়োগ হয়েছে সরাসরি উপাচার্যের হাত ধরে। এই কর্মীর মতই বাকি ৭১ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে নিয়োগ করার জন্য দাবি জানিয়ে গত দুদিন ধরে আন্দোলন চলছিল পুরনো আফসোসিং কর্মীদের। মঙ্গলবার উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজের কক্ষে যাওয়ার সময় ক্যাম্পাস গেটে আন্দোলনরত আউটসোর্সিং একজন মহিলা কর্মী সহ মোট দুজনকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ। তারপর দুজনকে সাথে সাথে হাসপাতাল নেওয়া হয়। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারপরেই আন্দোলন আরো বেশি তীব্র আকার ধারণ করে আউটসোর্সিং কর্মীদের।
আউটসোর্সিং কর্মীরা আরো জানান, এম আর ডাব্লিউ কর্মী হিসেবে তাদের নিযুক্তি দেওয়ার কথা বলা হলে তাদের তিনি বলেন তারা নাকি ভাড়াটিয়া। বিভিন্ন সময় বেতন বৃদ্ধির জন্য তারা দাবি করলে তাদের অশ্লীল কথা বলে গালিগালাজ করা হয়। বিষয়টি তারা মুখ্যমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় মাফিয়া রাজ চলছে। আবার কেউ কেউ দাবি করে আউটসোসিং কর্মী দ্বারা চলছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়। এক প্রকার ভাবে অরাজকতা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্নভাবে তাদের বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। কেউ মুখ খুলতে পারছে না। তাই তারা বিষয়টি দিল্লি পর্যন্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। পরে পুলিশ আসতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও আউটসোর্সিং কর্মীরা জানান, আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

