স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ ডিসেম্বর : মঙ্গলবার আগরতলা পুর নিগমের ৩২ নং ওয়ার্ডের নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দিরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা জল বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। একই সাথে অনুষ্ঠিত হয় ভূমি পুজন। এইদিন ফলক উন্মোচন করে জল বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের কাঠগড়ায় তুলে বলেন, কমিউনিস্ট সরকারের আমলে কোন জায়গায় ভূমি পূজন হয়েছে কিনা জানা নেই। কমিউনিস্টরা কখনো পূজা-পার্বণ বিশ্বাসই করে না।
কমিউনিস্টরা জন্ম, মৃত্যু কোন কিছুই বুঝে না। কিন্তু এগুলি যে প্রকৃতির নিয়ম সেটা ২০১৮ সালের বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বুঝা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবকিছুই নতুন করে পুনরুদ্ধার করছেন। ত্রিপুরা সরকারও সেই পথের পথিক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে জনসাধারণের কিছু সমস্যা হবে। কিন্তু এগুলি দীর্ঘস্থায়ী নয়। কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে মানুষ সঠিকভাবে পরিষেবা পায় উন্নয়নমূলক কাজের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরশীল সকলের। সকলের জল অপচয় না করার উপর সচেতন হতে হবে।
আগামী দিন চম্পকনগরে চম্পা ছড়া এলাকায় একটি ড্যাম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কারণ যদি জল ধরে রাখা যায় তাহলে সেটা ব্যবহার করা যাবে। সময়ের সঙ্গে সরকার উন্নয়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় এক ক্লাবের বাধা নিয়ে বলেন, ডেপুটেশন দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। বিনা আন্দোলনে সরকার মানুষের স্বার্থে কাজ করে চলেছে। যার কারণে ঘুম থেকে উঠে বিরোধীরা ইস্যু খুঁজে। আর তাদের ইস্যু খোঁজার আগেই সরকার কাজ সম্পন্ন করে ফেলে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন মাঝে মাঝে কেউ কেউ অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। কিন্তু শান্তি বজায় রাখতে শক্তি প্রয়োগ খুব প্রয়োজন। আর এটাও করা হয়। সুতরাং কেউ রাজ্যকে এগোতে বাধা দেবে সেটা কোন ভাবে বরদাস্ত করা হবে না।
উন্নয়ন মূলক কাজে কোন রাজনীতি হতে পারে না। আগে রাজনীতির জন্য রাজনীতি করা হতো। কিন্তু উন্নয়নের মধ্যেও রাজনীতি রয়েছে। কারন উন্নয়ন করলে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়া যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা খরচ করে এয়ারপোর্টের রোডকে ডাবল লেন থেকে ফোর লেন করা হয়েছে। প্রথম বারের মতো সম্প্রতি প্রবাসী ত্রিপুর সামিট করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৮০ জন প্রবাসী অংশগ্রহণ করেছে। তারা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। অপারেশন সিদুরের পর প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত-২০৪৭ এর কথা বলেছে। এইটা সম্ভব যদি রাজ্য গুলিও বিকশিত হয়। তাঁর জন্য বিকশিত ত্রিপুরা ২০৪৭ এর রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সকলে মিলে কাজ করলেই বিকশিত ত্রিপুরা করা সম্ভব হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, কর্পোরেটর রত্না দত্ত, ত্রিপুরা জল বোর্ডের সিইও, আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার ডি.কে চাকমা সহ অন্যান্যরা।

