স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ ডিসেম্বর : প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া জটিলতা কাটছে না আগরতলা স্থিত রাধানগর – খোয়াই এবং কমলপুর রুটে বাস চলাচলের। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগরতলা-খোয়াই ও কমলপুর রুটে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রেখেছে রাধানগর বাস স্ট্যান্ডের বাস চালকরা। তাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে কমলপুর থেকে আসা বাস গাড়ি গুলিকে খোয়াই স্ট্যান্ডে ৫ মিনিট সময়ের বেশি দাঁড়ানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে না। খোয়াই বাস ওনার্স কমিটির সম্পাদক কারো সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করে এই কমলপুর থেকে আসা বাস গুলিকে খোয়াই স্ট্যান্ডে দাঁড়ানোর সময় সীমা ৯ মিনিট থেকে ৪ মিনিট কমিয়ে ৫ মিনিট করে দিয়েছেন।
আবার কোন গাড়ি যদি খোয়াইর গাড়িকে ওভারটেক করে, তবে সেই গাড়িকে দাড় করিয়ে দুর্ব্যবহার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আগরতলা থেকে কমলপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়া গাড়ি গুলিকে মানিক ভান্ডার যাত্রী নামিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছে কমলপুরের গাড়ি মালিকরা। তাই বুধবার থেকে আগরতলা ও কমলপুরের বাস গাড়ি মালিকরা বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। খোয়াই থেকে আসা বাস গুলিকে রাধানগর স্ট্যান্ডে যাত্রী নামানোর পর খালি গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাধানগর-কমলপুর ভায়া খোয়াই সড়কে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। অপরদিকে খোয়াই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই খোয়াই–আগরতলা রুটে অতিরিক্ত যাত্রী ভাড়া আদায় করা হয়। বিশেষ করে আগরতলার রাধানগর স্ট্যান্ডে বিকেল চারটার পর থেকে বিভিন্ন যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ। যান চালকদের দাবি, আগরতলা থেকে খোয়াই ও কমলপুর রুটে যাতায়াতকারী গাড়িগুলি পরবর্তী সময়ে ফেরার পথে যাত্রী পায় না। এই যুক্তি দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মর্জি মাফিক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে কলেজ পড়ুয়া, নিত্য যাত্রী অফিসযাত্রী, রোগীর আত্মীয়-পরিজনয় সহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে গাড়িতে না তোলার হুমকি দেওয়া হয়—এই আশঙ্কায় অধিকাংশ যাত্রীই মুখ বুঝে বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক যাত্রী সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীর কাছে খোয়াই–কমলপুর–আগরতলা রুটে যাত্রীদের উপর চলা বেলাগাম ভাড়া আদায় বন্ধ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয় পরিবহন মন্ত্রী কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই বিষয়টি নিয়ে।

