Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যপ্রসেনজিৎ মৃত্যুকান্ডের ঘটনায় ধৃত তিন, তাদের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল কাস্টডিতে পাঠালো...

প্রসেনজিৎ মৃত্যুকান্ডের ঘটনায় ধৃত তিন, তাদের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল কাস্টডিতে পাঠালো আদালত, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন কোথায় নেই?

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ ডিসেম্বর :  সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় এবং ধর্মনগর বাসী সহ গোটা রাজ্যবাসীর আন্দোলনের চাপে পড়ে পাঁচজন অভিযুক্তের মধ্যে তিনজন অভিযুক্তকে জালে তুলে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে আসামের শ্রীভূমি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত সহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলা— সঙ্গীতা ভট্টাচার্য ও সুস্মিতা ভট্টাচার্য এবং ধৃত যুবকের নাম সৌরভ ভট্টাচার্য। ধৃতদের ইতিমধ্যেই চুরাইবাড়ি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই খবরটি নিশ্চিত করে উত্তর ত্রিপুরার পুলিশ সুপার অভিনাশ রাই জানান, মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তদন্ত শুরু করেছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে করিমগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে এদিন সকালে তাদের পাকড়াও করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত অগ্রসর হবে।

 এই মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।এদিকে, ধর্মনগরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার সাধারণ মানুষের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিচার চেয়ে চলা এই আন্দোলনকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এই আন্দোলনকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি বা আইন হাতে তুলে নেওয়া তদন্তের গতিকে মন্থর করে দেয়। পুলিশ প্রশাসন আইনের পথে থেকেই দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জানান পুলিশ সুপার। এদিকে আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে  জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এসময় আদালতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এদিকে আদালত তিনজন অভিযুক্তকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠায়। সেখানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ মালাকার মৃত্যুর ঘটনার পর ঘটনায় পুলিশ চারটি ধারায় মামলা নিয়েছে গত ১৪ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার পুলিশ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় আসামের শ্রীভূমি থেকে। তারপর তাদের আদালতে তুললে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাদের জেলের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

 উল্লেখ্য, গত রবিবার ধর্মনগরের কামেশ্বর এলাকায় উদ্ধার হয় ব্লু-ডার্ট কুরিয়ার সংস্থার ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকারের ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ, পার্সেল ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একদল গ্রাহকের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। সেই নির্যাতনের ফলেই তার এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই ধর্মনগর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়। এরপর থেকেই দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে ধর্মনগর সহ গোটা রাজ্য জুড়ে আছড়ে পড়ে প্রতিবাদের ঢেউ। একের পর এক বিক্ষোভ, মিছিল ও থানা ঘেরাওয়ে উত্তাল হয়ে উঠে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। যদিও পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও বাকি দু’জন অভিযুক্ত এখনো অধরা। ফলে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, প্রসেনজিতের মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও সাহায্য সহযোগিতার। প্রসেনজিৎ ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর অকাল মৃত্যুর ফলে পরিবারটি আজ কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ধর্মনগর সহ গোটা ত্রিপুরার মানুষ। তবে আপাতত আন্দোলন থামছে না—ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই জারি রাখার বার্তা স্পষ্ট আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে। অপরদিকে তারা গ্রেফতার হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা আগরতলায় এক অনুষ্ঠানের মধ্যে গিয়ে দাবী করেছেন ত্রিপুরায় আইনের আছে বলেই তারা গ্রেফতার হয়েছে। আইন কোথায় নেই প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য