স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ ডিসেম্বর : ৬ আগরতলা ব্লক কংগ্রেসের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত নোয়াগাঁও এলাকা। অভিযোগ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে সম্মেলন মঞ্চ। ঘটনাস্থলে মোতায়েন সিআরপিএফ ও পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বাধাকে উপেক্ষা করে খোলা আকাসের নিচে সম্মেলন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, পশ্চিম জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি, প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা সহ অন্যান্যরা। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ অভিযোগ করেন ছুটির দিনে স্কুলে সম্মেলন করার অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয় নি। তারপর একজন ব্যক্তির জোত জায়গায় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সকল ডেকোরেটরের মালিকদের হুমকি দেওয়া হয়, তারা যেন কংগ্রেসের সম্মেলনে চেয়ার সহ অন্যান্য সামগ্রী ভাড়া না দেয়। তারপর সিদ্ধান্ত নেন খোলা আকাসের নিচে সম্মেলন করার।
সম্মেলনের জন্য যে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল তাও ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তারপরও সম্মেলন করা হচ্ছে খোলা আকাসের নিচে। গোটা ঘটনার বিষয়ে সুশাসনের ফেরিওয়ালাকে অবগত করা হবে বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময় তিনি সভায় বক্তব্য রেখে বলেন, বর্তমান সরকার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে সরকার। দেশভাগের মূল মাস্টারমাইন্ড আরএসএস, হিন্দু মহাসভা এবং জিন্না। এখন বিজেপি জহরলাল নেহেরু এবং মহাত্মা গান্ধীকে দোষ দিয়ে চলেছে। কিন্তু ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য হিন্দু মুসলিম উভয় অংশের মানুষের ভূমিকা ছিল। দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের মধ্যে এখনো বিরানব্বই হাজার শহীদের নাম খোদাই করা আছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার হলো মুসলমান। সরকারের সমালোচনা করে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন আরো বলেন, এখন সরকার সমস্ত প্রতিশ্রুতি দূরে সরিয়ে ধর্মের নামে ভোট করানোর চেষ্টা করে।
বিজেপি সরকারের প্রতিষ্ঠিত হয়ে পাঁচ বছর দ্রব্যমূল্য, ঔষধপত্র সহ বিভিন্ন সরঞ্জামের উপর জিএসটি লাঘু করে মানুষকে চুষে নিচ্ছে। ভোট আসলে গরিবদের কাছ থেকে চুষে নেওয়া অর্থ অনুদান হিসেবে মানুষকে দেয়। অথচ শিক্ষক স্বল্পতা, চিকিৎসক স্বল্পতা নিয়ে দেশকে তারা কঠিন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়োগ না করে তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে জয় শ্রীরাম বলে মানুষের বাড়ি ঘরে আগুন লাগাচ্ছে। এভাবে শ্রীরামের অবমাননা করে চলেছে এবং হিন্দু ধর্মকে বিক্রি করে দিচ্ছে বিজেপি। আর বেকাররা যদি তাদের সঙ্গে এগুলি না করে তাহলে লাঠিপেটা করে বেকারদের চাকুরীর আন্দোলন রুখে দিচ্ছে। আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কারণে ভারতবর্ষ ২৪৯ হাজার লক্ষ কোটি ঋণ হয়ে আছে। এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দেশ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

