স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ নভেম্বর : ত্রিপুরা ক্রীড়া পর্ষদের এন.এস.আর.সি.সি সেন্টারে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার খেলোয়াড়দের অভিভাবকদের এন.এস.আর.সি.সি -র কমপ্লেক্সের ভেতরে বসতে হলে আইডেন্টিটি কার্ড নিতে হবে। যারা এই আইডেন্টিটি কার্ড নেবেন তাঁদের প্রত্যেক অভিভাবককে মাসে ১০০ টাকা করে পর্ষদকে দিতে হবে। কেউ যদি এক বছরের টাকাটা একসঙ্গে দিয়ে দেন এক্ষেত্রে ১২০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার টাকাতেই চলবে।এই বিষয়টি নিয়ে পর্ষদ সচিব পর্ষদের অন্যান্যকর্তা ব্যক্তি এবং প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
যা লাগু করা হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে। বুধবার এই খবর অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিভাবকদের অভিযোগ বুধবার থেকে তাদেরকে কমপ্লেক্সের ভেতরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে ওয়াশরুম তাদেরকে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিভাবকদের বক্তব্য তাদের বাচ্চারা যখন প্রাকৃতিক কাজের জন্য ওয়াশরুমে যায় তখন তাদেরকে অনেক সময় জামাকাপড় পরিবর্তন করে দিতে হয়। যার কারনে অভিভাবকদের সেখানে থাকাটা বাঞ্ছনীয়। এক বছর আগে খেলোয়াড়দের জন্য বছরে ৬০০ টাকা করে নেওয়া হতো অভিভাবকদের কাছ থেকে। উন্নয়নের ঢেকুর তুনে এখন একে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এক বছরের জন্য একসঙ্গে টাকাটা দিলে তা কমে আসে এক হাজার টাকায়। অভিভাবকরা অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এখানে নিজেদের বাচ্চাদের নিয়ে আসেন খেলাধুলা শেখানোর জন্য। গাড়ি ভাড়া বাবদ অনেকটা পয়সা চলে যায়। সবাইকে আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল এমনটা নয়। অন্য একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন কমপ্লেক্সের ভেতরে মশার উপদ্রবে থাকা যায় না। কখনো আবার সাপ ছোট ছুটি করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে আলোর ব্যবস্থা নেই। সময় কাটানোর জন্য কেউ কেউ কখনো লুডু খেলে। একজন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন ক্রীড়া পর্ষদ এখন টাকা রোজগারের জায়গা হয়ে গেছে। বাচ্চারা কখনো বমি করলে পরিষ্কার করার মতো কোনো সুইপার থাকে না এখানে। ক্রীড়া পর্ষদ যে পরিমাণ টাকাটা নিচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে তা বাচ্চাদের জন্য কোন খাতে ক্রীড়া পর্ষদ ব্যবহার করছে তা জানতে চায় অভিভাবকরা। কোন একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে পর্ষদের কর্তা ব্যক্তিরা বাবু সেজে টেবিল চেয়ারে বসে থাকেন আর অভিভাবকদের গুহার জায়গা মত অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ক্রীড়া পর্ষদ যারা চালাচ্ছেন তাদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে কোন অবদান নেই। পার্টির লোক এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে পর্ষদের। তারা এখানে রোজগার করতে এসেছে।
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত লোকেরা এসে এখানে অভিভাবকদের যন্ত্রনা দিচ্ছে। ক্রীড়া জগতের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদেরকে এনে পর্ষদের বসানোর দাবি তুলেন অভিভাবকরা। এদিকে পর্ষদ সচিব সুকান্ত ঘোষ জানিয়েছেন ক্রীড়া পর্ষদের শৃঙ্খলা আনার জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে যে সমস্ত অভিভাবকরা বসবেন তাদের আইডেন্টিটি কার্ড নেওয়ার জন্য ১০০ টাকা করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তা লাগু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্রীড়া মন্ত্রী ব্যস্ততার মধ্যে থাকায় তিনি ক্রীড়া-মন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখনো করতে পারেননি শীঘ্রই আলোচনা করবেন। কমপ্লেক্স এর বাইরে বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে অভিভাবকরা এদিন রীতিমতো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পর্ষদ সচিব সহ পর্ষদের অন্যান্য কর্তা ব্যক্তিরা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এলে অভিভাবকদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ছুটে আসতে হয় পশ্চিম থানার পুলিশকে। একপ্রকারভাবে হুলিয়া জারি করে মুখে চুনকালি মাখতে হলো পর্ষদের কর্তা ব্যক্তিদের।

