স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ নভেম্বর :১৮৭০ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষে দেশপ্রেমিকদের মধ্যে স্বদেশী মনোভাব জাগ্রত করার জন্য ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতটি সংস্কৃত ভাষায় কবিতা আকারে লিখেছিলেন। ১৮৭৫ সাল থেকে এই সংগীত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেশ প্রেমিকদের কন্ঠে ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস আনন্দমঠে এই ‘বন্দেমাতরম’ প্রকাশিত হয়েছিল।
১৮৯৬ সালে প্রথমবার বন্দেমাতরম সংগীতটি জনসম্মুখে গেয়েছিলেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরাধীন ভারতকে ব্রিটিশদের শৃংখল থেকে মুক্ত করার জন্য দেশ প্রেমিকদের দারুন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল এই বন্দেমাতরম সংগীত। এই সংগীত ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বন্দেমাতরম সংগীত গেছেন দেশের অগণিত সংগীতবিদ। এই বন্দেমাতরম সংগীতের ১৫০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু হতে চলেছে আগামী সাত নভেম্বর থেকে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী বর্ষপূর্তি উদযাপনের এক বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বুধবার মহাকরণে সেই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন রাজ্যের খাদ্য ও জনসংভরন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই বর্ষপূর্তি উদযাপন চলবে মোট চারটি পর্যায়ে। আগামী ৭ নভেম্বর এই বর্ষপূর্তি উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ভাবে মহাকরণে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাভিত্তিক এই কর্মসূচিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রী। পশ্চিম জেলায় মন্ত্রী রতন লাল নাথ, সঙ্গে থাকবেন সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য, সিপাহী জলা জেলায় মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, গোমতি জেলায় মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, দক্ষিণ জেলায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, খোয়াই জেলায় মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা এবং অনিমেষ দেববর্মা, ধলাই জেলায় মন্ত্রী সুধাংশু দাস, এই জেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যপালকেও। রাজ্যপাল সেখানে গেলে রাজ্যপালের পাশে থাকবেন মন্ত্রী প্রধান সুধাংশু দাস।
ঊনকোটি জেলায় মন্ত্রী টিঙ্কু রায় এবং উত্তর জেলায় থাকবেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা। মহকুমা ভিত্তিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন মহকুমার বিধায়করা। এই বন্দেমাতরম সংগীতকে রচনা করেছেন, তা হয়তো বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানেন। বন্দেমাতরাম সংগীত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা বর্তমান প্রজন্মদের মধ্যে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের বীর সেনানিদের স্বাধীনতার সংগ্রামে বীর গাঁথা তুলে ধরাই এই বর্ষব্যাপী উদযাপন অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্যবস্তু। দেশাত্মবোধের ভাবধারায় নিজেদের জাগ্রত করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্যমাত্রা এই কর্মসূচির।

