স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ অক্টোবর : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিভিন্ন দাবিতে তিপ্রা সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে ২৩ অক্টোবর বনধ। কিন্তু সকাল থেকেই আগরতলা বাসী এই বনধ প্রত্যাহার করেছে। অথচ অ্যাডিশনাল এসপি ধ্রুব নাথ, সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় এবং পূর্ব আগরতলা থানার ওসি সুব্রত দেবনাথ বনধের সমর্থনে দায়িত্ব পালন করেছেন রাজধানীর উত্তর গেট এলাকায়। কারণ সরকারিভাবে আগে থেকেই বনধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রেস বিবৃতি জারি করে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ ছিল যাতে এদিন সমস্ত কর্মচারীরা সময় মতো অফিসে উপস্থিত থাকেন। সে অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা সকাল থেকেই প্রতিদিনের মতো নিজ দায়িত্ব পালন করতে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় রাজধানীর উত্তর গেট এলাকা দিয়ে যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীরা এবং সাধারণ পথচারীরা যাতায়াত করতে চেয়েছিল তাদের বাধা দিয়েছে পিকেটাররা। এবং এই পিকেটারদের সমর্থন করেছে পুলিশ প্রশাসন। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় উঠে এসেছে এক ব্যক্তি বাইক নিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় তাকে বাধা দিয়েছে পিকেটাররা। তখন সে ব্যক্তি বলেছিলেন তিনি জরুরী কাজে বের হয়েছেন। তখন একদল উচ্ছৃংখল পিকেটার এসে বাইকের চাবি ছিনিয়ে নেয়। তারপর আসেন অ্যাডিশনাল এসপি ধ্রুব নাথ, সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় এবং পূর্ব আগরতলা থানার ওসি সুব্রত দেবনাথ। এই পুলিশ আধিকারিকরা বাইক চালককে বলেন তিনি এই রাস্তা দিয়ে যেতে পারবেন না। ঘুরে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বলেন। সে ব্যক্তি তখন বলেন, আমি কি জরুরী কাজও যেতে পারবো না?
তখন এক পিকেটার বলে জরুরী কাজের কাগজ দেখাতে হবে। সে ব্যক্তি বলেন জরুরী কাজের কি কোন কাগজ হয়? শেষ পর্যন্ত এসডিপিও দলদাসের ভূমিকা পালন করে বলেন আমরা ভোর পাঁচটা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। আপনি দেখতাছেন নি কয়টা মানুষ চলাফেরা করতাছে? পুলিশ আধিকারিকের এমন কথা শুনতে পেয়ে জরুরী কাজে বের হওয়া বাইক চালক হতাশ হয়ে পড়েন। তারপর পুলিশ বাইকের চাবি পিকেটারদের কাছ থেকে তুলে দেয় বাইক চালকের হাতে। নিরুপায় বাইক চালক শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতেই বাধ্য হলেন। অপরদিকে একজন কর্তব্যরত চিকিৎসককে পর্যন্ত হাসপাতালে যেতে দেয় না উৎশৃংখল পিকেটাররা। চিকিৎসকের বাইক থেকে পুলিশের সামনেই চাবি ছিনিয়ে নেয় আন্দোলনকারীরা। এভাবে বহু সরকারি কর্মচারীকে এদিন ফেরত বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের সিংহভাগ সরকারি দপ্তরের প্রধান কার্যালয় গোর্খা বস্তি এলাকায়। অথচ সেই সমস্ত অফিসে কর্মচারীরা সঠিকভাবে উপস্থিত হতে পারেনি। কেউ কেউ বড়জলা কিংবা জিবি হয়ে অফিসে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহিলা কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত হতে পারেনি। কারণ তারা উত্তর গেট এলাকায় গিয়ে পুলিশের সামনে এমন উশৃঙ্খলতা দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পুলিশের এই ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে তাহলে কি পুলিশ ব্যর্থ, নাকি পরিকল্পিতভাবে সরকারকে কালিমা লিপ্ত করতে মাঠে নেমেছে খোদ তিন পুলিশি অধিকারিক। যারা রাষ্ট্রপতি-কালার্স প্রাপ্ত পোশাক পরিধান করে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার শপথ নিয়েছে তারাই এখন দলদাস হয়ে কতটা নির্লজ্জের ভূমিকা পালন করছে সেটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়।
নাহলে পুলিশ অবশ্যই সরকারের নির্দেশ মেনে সরকারি কর্মচারীদের এবং সাধারণ মানুষকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সহযোগিতা করতো। শুধু তাই নয়, উত্তর গেট থেকে সার্কিট হাউজ এবং গোর্খা বস্তি পর্যন্ত ছিল দোকানপাট, বাজার হাট বন্ধ। সকাল থেকে রাজধানীর উত্তর গেট, সার্কিট হাউস সহ যেসব এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হয়েছে সেসব এলাকায় ধরপাকড় হতো। মানুষের মধ্যে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে, চাকরির দাবিতে বেকার যুবক-যুবতীরা যখন কোন সরকারি অফিসের সামনে আন্দোলন করে, তখন এই পুলিশ অফিসাররা অ্যাক্টিভ মুডে দাবাং -এর ভূমিকা থাকেন। কিন্তু যে বনধ জনগণের উপর প্রভাব ফেলেছে সেটা কিভাবে সমর্থন জুগিয়েছে পুলিশ আধিকারিক সেটাই প্রশ্ন আমজনতার? এক প্রকার ভাবে বলা যায় সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার জন্য বনধের সমর্থন জুগিয়েছেন তিন পুলিশ আধিকারিক।

