স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫: ২০২৮ সালে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিপ্রাসা থেকে। সোমবার আগরতলা রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত মেগা যোগদান শিবিরে এ কথা বলেছিলেন তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মণ। এরপরই প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মণকে ভিন রাজ্যের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাসির খোরাক বানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
আসামে গিয়ে তিনি এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। যেকোনো জাতি ধর্মের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে পারেন। কিন্তু প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ তিপ্রসা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে যে কথাটি বলেছেন সেটা অত্যন্ত আজগবি, আকাশ কুসুম এবং অনৈতিক। কারণ এভাবে তিনি দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্লোগান তুলেছেন জনজাতিদের কাছে। কখনো বলেছেন থানসা, ওয়ান লাস্ট ফাইট এবং বিভিন্ন স্লোগান তুলেছেন। এগুলির মতো এবার নতুন স্লোগান ২০২৮ সালে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিপ্রাসা।
তাই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম উনার নয়া স্লোগানকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি যাতে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল সম্পর্কে আগে অবগত হন। পাশাপাশি সে রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি বলেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকার বিজেপি এবং এডিসি সরকার তিপরা মথার মধ্যে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা চলছে। এক তীব্র প্রতিবাদ জানান ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাসকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বিরোধী দলনেতা।
তিনি বলেন, মন্ত্রী হওয়ার আগে সুধাংশু দাস বিপিএল রেশন কার্ড ধারী পরিবারের যুবক ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর ওনার বিধানসভা এলাকায় বহু অভিযোগ রয়েছে ওনার বিরুদ্ধে। অথচ দেখা গেছে বিগত বছর মন্ত্রী সুধাংশু দাসের ভাই ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বোচ্চ করদাতা ছিল। আর এই মন্ত্রী গত পরশুদিন এক ওয়েব পোর্টালকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ষ্পষ্ট করেছেন তিনি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এর দ্বারা স্পষ্ট করেছেন তিনি যেভাবে অবৈধ সম্পত্তি কামিয়েছেন সেটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন এদিন। দুর্নীতি অটল সাগরে নিমজ্জিত এই মন্ত্রী। অবিলম্বে মন্ত্রী সভা থেকে বহিষ্কার করার জন্য দাবি করলেন তিনি। আরো বলেন, মন্ত্রীর আসনের থাকার যোগ্য নয় সুধাংশু দাস।

