স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর :দৌড় গড়ায় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা পূজা ও শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজা ঘিরে উত্তর জেলার কদমতলা এলাকার কুমোরপাড়ায় চলছে মৃৎশিল্পীদের ভীষণ ব্যস্ততা। বিশেষ করে বিশ্বকর্মা পূজা ও দুর্গাপূজা দৌড় গড়ায় হওয়ায় কারিগরদের নাওয়া-খাওয়া প্রায় বন্ধ। দিনরাত এক করে দক্ষ হাতে তারা গড়ে তুলছেন বিশ্বকর্মা ও দুর্গার প্রতিমা।
তারা জানান একদিকে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে পূজো উদ্যোক্তাদের প্রতিমার দাম না বাড়ানোর প্রবণতা—সব মিলিয়ে মৃৎশিল্পীদের মুনাফা অনেকটাই কমে গেছে। তবুও অতি যত্নে প্রতিটি প্রতিমা তৈরি করছেন তারা। কদমতলা পুরাতন পোস্ট অফিস রোডের মৃৎশিল্পী দিলু পাল জানান, এবছর তিনি মোট ৩৫ টি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন। ইতিমধ্যে ৩২ টি প্রতিমা অগ্রীম বায়না হয়ে গেছে, বাকি প্রতিমাগুলিও শীঘ্রই বিক্রি হবে বলে আশাবাদী তিনি। তাঁর প্রতিমার মূল্যসীমা সর্বোচ্চ ৬০–৭০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। উনার তৈরি প্রতিমাগুলি কদমতলা, চুরাইবাড়ি, ধর্মনগর সহ আসামের শ্রীভূমি জেলায়ও বিক্রি হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মতো পহেলা বৈশাখ থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। চতুর্থী বা পঞ্চমীর দিনে প্রতিমাগুলি মণ্ডপমুখী করা হয়। তবে এবছর বিশ্বকর্মা পূজা ও দুর্গাপূজা কাছাকাছি হওয়ায় বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরিতে খানিকটা ভাঁটা পড়েছে। তবুও তিনি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রতিমার দাম ১৫ হাজার টাকা। যদিও এখনো কোন অগ্রীম বায়না হয়নি, তবে পূজার আগে সবকটি প্রতিমা বিক্রি হয়ে যাবে বলেই আশাবাদী তিনি। দিলু পালের সঙ্গে আরও ৫–৬ জন দক্ষ কারিগর দিনরাত এক করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত। তিনি কদমতলা বাজারে মৃৎশিল্পীদের জন্য স্থায়ী শেড ঘরের দাবিও জানান। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে কিংবা মানুষের দোকানের বারান্দার সামনে বসে প্রতিমা বিক্রি করতে হয়, যা বিক্রির ক্ষেত্রে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত দিলু পাল সহ অন্যান্য কারিগররা। সারা বছর প্রতিমা তৈরি করেই সংসার চালান তারা। তবুও তাদের আশা—সরকারি সহযোগিতা ও পূজা উদ্যোক্তাদের সহমর্মিতায় এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও নতুন প্রাণ পাবে।

