স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৯ আগস্ট।। দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চল ও এর আশপাশের জলসীমায় একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনসহ মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। সরাসরি ভেনেজুয়েলার নাম না বলে লাতিন আমেরিকার মাদকচক্রের হুমকি মোকাবেলায় এসব নৌযান ও সৈন্য পাঠানো হয়েছে বলে ভাষ্য ওয়াশিংটনের। অবৈধ অভিবাসন রুখতে ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার যে বিস্তৃত তৎপরতা তার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এবারের প্রশাসন মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানকে তাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য বানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, মার্কিন কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিয়মিত চলাচল করলেও এবার সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সামরিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, ৭টি যুদ্ধজাহাজ ও একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক সাবমেরিন হয় এখনই দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে আছে, নয়তো সামনের সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে পৌঁছাবে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক উপস্থিতির কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রকৃত কারণ কী, পেন্টাগন সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, মাদকচক্র ও বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে এখন ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রস্তুতে পেন্টাগনকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তাদের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সনদ লঙ্ঘন করছে। “বিশেষজ্ঞরা যাকে ‘কাইনেটিক অ্যাকশন’ (আলোচনা বা কূটনীতি নয়, সরাসরি অস্ত্র ব্যবহার) বলে থাকেন, অর্থ্যাৎ, কারও জন্য হুমকি নয় এমন সার্বভৌম ও স্বাধীন একটি দেশে সামরিক হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে,” গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা। একইদিন হোয়াইট হাউস বলেছে, “আমাদের দেশে মাদকের প্রবাহ রুখতে আমেরিকার শক্তির প্রত্যেক উপকরণ ব্যবহারে ট্রাম্প প্রস্তুত।” “অনেক ক্যারিবীয় দেশ এবং ওই অঞ্চলের অনেক রাষ্ট্রই (ট্রাম্প) প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে,” সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসা ট্রাম্পের প্রশাসন ফেব্রুয়ারিতেই সিনালোয়াসহ মেক্সিকোর একাধিক মাদকচক্র এবং ভেনেজুয়েলার অপরাধী গোষ্ঠী ত্রেন দে আরাগুয়াকে তাদের ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার এখনকার শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ‘বৈধ প্রেসিডেন্ট’ মনে করে না; তার সঙ্গে লাতিনের বিভিন্ন মাদকচক্র ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর যোগসাজশ আছে বলেও অভিযোগ ওয়াশিংটনের। মাদকচক্র ও ত্রেন দে আরাগুয়ার মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর সরকারকে উৎখাতে ফন্দি আঁটছে বলে অভিযোগ কারাকাস ও এর মিত্রদের। মাদুরো এরই মধ্যে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে সৈন্য উপস্থিতি বাড়িয়েছেন, ভেনেজুয়েলার জলসীমায় তাদের নৌযানের সংখ্যাও বেড়েছে বলে একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন নৌযানগুলোর মধ্যে ইউএসএস আন্তোনিও, ইউএসএস আইও জিমা ও ইউএসএস ফোর্ট লডারডেলের মতো স্থলভাগে সৈন্য নামাতে পারে এমন উভচর জাহাজও আছে। এসব জাহাজে দুই হাজার ২০০ মেরিনসহ সাড়ে চার হাজার সেনা আছে বলে একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। তথ্য জোগাড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে নিয়মিত পি-৮ গোয়েন্দা বিমানও ওড়াচ্ছে, তবে সেগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমার মধ্যেই থাকছে, বলেছেন কর্মকর্তারা। “আমাদের কূটনীতি কামান বা হুমকির কূটনীতি নয়, কারণ এখনকার বিশ্ব ১০০ বছর আগেকার বিশ্বের মতো হতে পারে না,” বলেছেন মাদুরো। কয়েকদিন আগেই তার সরকার মাদক চোরাকারবারে জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবেলায় কলম্বিয়ার সঙ্গে থাকা পশ্চিম সীমান্তের রাজ্যগুলোতে ১৫ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। মাদুরো বেসামরিক প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোকে প্রতি শুক্র ও শনিবার প্রশিক্ষণ নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা
সম্পরকিত প্রবন্ধ

