Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যবেআইনি লেনদেনের তদন্তে করতে রাজ্যের চার জায়গায় ইডি-র অভিযান

বেআইনি লেনদেনের তদন্তে করতে রাজ্যের চার জায়গায় ইডি-র অভিযান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ আগস্ট : মঙ্গলবার ত্রিপুরা পুলিশকে ঘুমে রেখে রাজ্যের চার জায়গায় ইডি হানা দেয়। এর মধ্যে বাধারঘাট নবজাগরণ এলাকা, এ.ডি নগর এলাকা, নলছড় এলাকা ও খয়েরপুর এলাকায় একসাথে অভিযান চালায় ইডি। এদিন ক্যাম্পের বাজারের স্বরূপ বণিকের বাড়িতে ইডি’র তল্লাশি চালায়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। স্বরূপ বণিক হলেন ফায়ার সার্ভিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী।

 একটি বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি প্রচুর টাকা কামাই করেছেন। যার কোন হিসেব নেই বলে খবর। তার ভাই টিসিএস অফিসার সোমেশ বণিক। তিনি কর্মরত বিশালগড় মহকুমা শাসক অফিসে কর্মরত। অপর অভিযানটি হলো খয়েরেরপুর স্থিত সিপিআইএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পবিত্র করের বাড়িতে। ইডির টিম হানা দেয় তার ভাগিনা উৎপল চৌধুরীর কারণে। সেই উৎপল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইডি এখন তদন্ত করছে। কারণ তার বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। উৎপল চৌধুরীর বিষয়ে তারা বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়েছেন। একইভাবে উৎপল চৌধুরীর শ্বশুর বাড়ি অর্থাৎ নলছড়েও হানা দেয় ইডি।

প্রাক্তন ব্যাংক ম্যানেজার হারাধন বৈদ্যের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। হারাধন বাবুর মেয়ে তনুশ্রী বৈদ্যের সাথে বিয়ে হয়েছে পবিত্র করের ভাগ্নে উৎপলের। তনুশ্রী আবার পেশায় এয়ার হোস্টেজ। অন্যদিকে আগরতলা বাধারঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৫১ নম্বর বুথ সভাপতি পরিতোষ ভৌমিকের ভাড়াটিয়া মিহির দেবনাথের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। যদিও মিহির দেবনাথ বলেছেন তার ঘর থেকে ইডি নাকি কিছুই পায়নি। তার দাবি ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা আদান-প্রদান হয়েছিল তার ব্যাংক একাউন্টে। সূত্রের খবর যাদের বাড়িতে এদিন অভিযান চালানো হয়েছে তারা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নাম ইডি -র খাতায় ছিল। বহু কোটি কোটি টাকা তারা লেনদেন করছে বলে খবর। শুধু তাই নয় তাদের মধ্যে অনেকে মানব পাচার, নেশা কারবারি সহ বিভিন্ন কার্যকলাপের সাথে জড়িত রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তারা রাতারাতি বেআইনি অর্থ কমিয়েছে বড় অভিযোগ। তবে সূত্রের খবর বহু তথ্য উঠে এসেছে ইডির হাতে। সংবাদ মাধ্যমে সামনে মুখ খুলতে চাননি তারা। এইদিন প্রতিটি বাড়ি প্রথমে কেন্দ্রিয় আধাসামরিক বাহিনির জওয়ানরা ঘেরাও করে নেয়। তারপর ই.ডি আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট বাড়ি গুলিতে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেন। তবে এই সকল বাড়িতে আচমকা কেন ই.ডি-র হানা তা স্পষ্ট ভাবে জানা যায় নি। ই.ডি আধিকারিকরাও সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন নি। ই.ডি আধিকারিকরা প্রতিটি বাড়িতে এইদিন দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালান। স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের চার জায়গায় আচমকা ই.ডি আধিকারিকদের অভিযানকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য