স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ আগস্ট : অনুপ্রবেশ নিয়ে ঢাকা শহরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর শীর্ষক বৈঠকের আগে ত্রিপুরায় আন্দোলন সংগঠিত করল টিএসএফ। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের পরেও বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ ত্রিপুরা সরকার। আসাম সরকারের মতো কোনো কড়া পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকারকে সজাগ করতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দাবি সনদ দেওয়ার আগে রাজধানীর সার্কিট হাউজ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এমনটাই অভিযোগ করল টি এস এফ। যদিও এদিনের কর্মসূচি নেসোর আহবানে করা হয়েছে। মূলত দাবি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ অবিলম্বে রুখতে হবে সরকারের।
বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ কারীরা বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে রাজ্যের ভবিষ্যৎ ও দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে এবং নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দু মাস আগে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনরকম ইতিবাচক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি ত্রিপুরা সরকারকে। বরং আসাম সরকার বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশ ফেরত পাঠাচ্ছে। টি এস এফ -এর পক্ষ থেকে দাবি অবিলম্বে আসাম সরকারের মত ত্রিপুরা সরকারকে ভূমিকা নিতে হবে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে একটি সনদ প্রেরণ করা হবে। এর আগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে হুশিয়ার দেওয়া হচ্ছে অবিলম্বে সরকার পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিন বৃহত্তর আন্দোলন সংঘটিত করা হবে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন টিএসএফ আগরতলা টাউন কমিটির সভাপতি মনীষ দেববর্মা। এ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিএসএফ -এর সাধারণ সম্পাদক হামল জমাতিয়া এবং নেসোর সম্পাদক জন দেববর্মা। সূত্রের খবর, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। ভারত- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশনিত কারণে সংবেদনশীল অবস্থা সৃষ্টি হয়ে আছে। তারা বেআইনিভাবে ত্রিপুরার সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে প্রবেশ করছে ভারতে।
বিশেষ করে তারা ত্রিপুরায় এসে তারপর দেশের অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। তাই এই বিষয় নিয়ে আগামী ২৫ – ২৮ আগস্ট ঢাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রধান এবং বিজিবি প্রধান। শীর্ষক বৈঠকে গুরুত্বভাবে অনুপ্রবেশ, চোরা চালান সহ অন্যান্য বহুদিক। ভারত সরকারের অভিমত যদি বিজিবি সতর্ক থাকে তাহলে অনু প্রবেশ অনেকটাই রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। কারণ ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্ত অঞ্চলে একাধিক মাদক পাচারের মূল রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছে অনুপ্রবেশকারীরা। এর সাথে জড়িত এই অনুপ্রবেশকারীরা বলে মনে করছে।

