Friday, February 6, 2026
বাড়িরাজ্যসামাজিক মাধ্যমে উস্কানি মূলক পোস্ট করে রাজ্যের সুভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার জন্য চেষ্টা

সামাজিক মাধ্যমে উস্কানি মূলক পোস্ট করে রাজ্যের সুভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার জন্য চেষ্টা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৭ আগস্ট : সামাজিক মাধ্যমে উস্কানি মূলক পোস্ট করে রাজ্যের জাতি জনজাতির সুভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন জনজাতির রাজনৈতিক দলের এক প্রথম সারির নেতৃত্ব। নেতা হওয়ার পলিসি খুঁজতে গিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে এমন পোস্ট করেছেন। যা রাজ্যের জন্য আগামী দিন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে। এক প্রকার ভাবে দাঙ্গার দিকে ঠেলে দিতে পারে ত্রিপুরাকে। উনার নাম ডেবিড মুড়া সিং।

 রাজ্যের এক জনজাতি দলের প্রথম সারির নেতৃত্ব ডেভিড মুড়া সিং। সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট করে রাজ্যে জাতি দাঙ্গা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। ডেভিড বাবু গনা কয়েক কর্মী নিয়ে গত জুলাই মাসে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে গিয়ে দলীয় দাবি উত্থাপন করবেন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে। এটা দলের সাংবিধানিক বিষয়। কিন্তু বুধবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক বিতর্কিত পোস্ট করে রাজ্যের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন -“কোনদিন তিপ্রসা যুবকরা বাঙালি মেয়ের উপর কুনজর দেয়নি, কিন্তু তিপ্রসা মেয়েদের রোজ রোজ বাঙালি ছেলেরা ধর্ষণ এবং খুন করে আসছে। দ্বিতীয়তঃ তিপ্রসা কোনদিন বাঙ্গালীদের কোন দাবি-দাওয়া বিরোধিতা করেনি, কিন্তু বাঙালিরা রোজ রোজ তিপ্রসাদের যেকোনো দাবি প্রতিনিয়ত বিরোধিতা এবং হিংসা করে।

তৃতীয়তঃ তিপ্রসা বাঙ্গালীদের সব সময় সহযোগিতা করে, কিন্তু বাঙালিরা সর্বদা তিপ্রসাদের লুটপাট করার চিন্তা ভাবনায় থাকে। চতুর্থ কোনদিন তিপ্রসারা গড়িয়া পূজার চাঁদা নিয়ে জোর জবরদস্তি করেনি। অথচ বাঙালিরা তিপ্রসাদের উপর দুর্গাপূজার চাঁদার জবরদস্তি জুলুম করে। তারপরে আরো লিখেছেন, তিপ্রসা কোনদিন বাঙালির দখলকৃত এলাকায় কোন ঠিকাদারি কাজে নাক গলায় না, অথচ বাঙালিরা এডিসি এলাকায় সমস্ত কাজে নাক গলায়। তিপ্রসা পৃথক রাজ্য দাবি করলে তাদের সঙ্গে থাকার জন্য দাবি করে বাঙালিরা। কারণ তিপ্রসারা আলাদা হয়ে গেলে লুটপাট করতে পারবে না। সর্বশেষ লিখেছেন সাম্প্রদায়িক কারা?” এমন ধরনের মন্তব্য পোস্ট করেছেন তথাকথিত নেতা ডেভিড মুড়া সিং। ওনার পোস্টে স্পষ্ট হয়ে গেছে রাজ্যের শান্তি সম্প্রীতি এবং জাতি জনজাতির সুভ্রাতৃত্ব আর সহ্য হচ্ছে না উনার মতো প্রথম সারির কিছু নেতার। খবর লেখার ১৫ ঘণ্টা পরেও দলের পক্ষ থেকে এ বিষয় নিয়ে কোনরকম শব্দ উচ্চারণ হয়নি। এমনকি দলীয়ভাবে এর কোন প্রতিবাদ নেই রাজ্যে। সামাজিক মাধ্যমে বহাল রয়েছে ওনার বিতর্কিত পোস্ট।

 কিন্তু এ ধরনের পোস্ট রাজ্যের সু ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করতে এক বড় ভূমিকা পালন করবে। সরকারে আছে বলে সম্প্রতি রাজ্যে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য সব রকম চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু এই ঘটনাটি চাক্ষুষ করেনি জনগণ। গত কয়েকদিনে আগরতলা শহর ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গুন্ডামি সহ বিভিন্ন ধরনের উচ্ছৃংখলতা লক্ষ্য করেছে। আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ নাগরিক। অথচ সরকার কোনরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ত্রিপুরা একটি সুভাতৃত্বের রাজ্য। ৩০ শতাংশ জনজাতি এবং কুড়িটি জনজাতি সুরক্ষিত বিধানসভা আসন নিয়ে সরকার কাজ করে। বর্তমানে যে সরকার রাজ্যের পরিচালনা করছে তার মধ্যে ডেবিড বাবুর দল রয়েছে। কিন্তু সরকারে থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই শোভা পায় না রাজ্যে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন ধরনের পোস্ট রীতিমত সবাইকে অবাক করার মত। এক কথায় বলা যায় দলের এমন ভূমিকা লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যাওয়ার মতো। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে মানুষ নিন্দা শুরু করেছে ডেবিড বাবুর বিতর্কিত পোস্টের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ এমনটাও বলছে যদি এটা রাজনৈতিক নেতা না হয়ে কোন সাধারন নাগরিক লিখতেন তাহলে ততক্ষণে গ্রেফতার হয়ে যেতেন। তবে যে কথাবার্তা রাজ্যের শান্তি সম্প্রীতি নষ্ট করে সেটা বাক স্বাধীনতা নয়। কিন্তু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করা ঠিক নয়। সত্যি বলতে, বাঙালি এবং তিপ্রাসা-উভয় সম্প্রদায়েরই উচিত এই ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানো। রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কিন্তু ভবিষ্যতেও এই দুই সম্প্রদায়কে একসঙ্গে সহাবস্থান করতেই হবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য