স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৫ জুন : জেলা প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি মেনে ভিটেমাটি ছেড়ে ১৭ টি পরিবার উদয়পুর আমতলী বনদুয়ার এলাকায় আশ্রয় নেয়। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। এমনটাই অভিযোগ তুললো বঞ্চনার শিকার হওয়া পরিবারগুলো। জানা যায়, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে উদয়পুর মহকুমায় কিল্লা বিধানসভা অন্তর্গত রাইয়াবাড়ি মুসলিম মধ্যপাড়া এলাকায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছে। গোটা এলাকা যুগ যুগ ধরে শান্তিতে থাকলেও গত এক থেকে দেড় বছর ধরে অশান্ত হয়ে উঠছে। তখন গোমতী জেলা প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এলাকার নির্দিষ্ট অংশের লোকজনদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার।
গত সাত মাস আগে ১৭ টি পরিবারের প্রায় ৭০ জনকে রাইয়াবাড়ি থেকে সরিয়ে উদয়পুর আমতলী বনদুয়ার এলাকায় সরকারিভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। যখন ১৭ টি পরিবারকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়, তখন নাকি জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে ঘর দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ এবং জলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সঙ্গে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে প্রশাসন থেকে। প্রশাসনের প্রতি মান্যতা দিয়ে ১৭ টি পরিবার সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমতলী বনদুয়ার এলাকায় চলে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এখনো তাদের জন্য ঘরের ব্যবস্থা , জলের ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি সরকার। মোঃ শাহজাহান মিয়া নামে একজন বলেন সরকার কথা দিয়েও কথা রাখেনি।
যখন তারা রাইয়াবাড়িতে ছিলেন তখন সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনা ঘর থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা সব ধরনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আমতলী বনদুয়ার এলাকায় এসে সরকার যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি গুলো দিয়েছিল একটাও নিয়মিত ভাবে পালন করেনি। ফলে অসহায় অবস্থা তাদের দিন যাপন করতে হচ্ছে। সামান্যতম পানীয় জলের ব্যবস্থা পর্যন্ত সরকার করতে পারেনি। প্রায় ৫০০ মিটার দূর থেকে তাদের জল আনতে হয়। গোমতী জেলার জেলা শাসক থেকে শুরু করে প্রশাসনের ছোট বড় সবার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে তাদের জন্য পানীয় জল, বিদ্যুৎ, ঘড় এমনকি ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য ব্যবস্থা যাতে করে দেওয়া হয়। এখন দেখার বিষয় জেলা প্রশাসন যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি গুলো দিয়ে পরিবার গুলিকে আনা হয়েছে সেইগুলো বাস্তবায়িত করে কিনা। সেই দিকে তাকিয়ে আছে ১৭ টি পরিবারের প্রায় ৭০ টি লোকজন।

