স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৫ জুন: রবিবার সি আই টি ইউ রাজ্য কার্যালয়ে ত্রিপুরা অটো রিক্সা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ৩২ তম প্রতিষ্ঠা দিবস এবং নবম রাজ্য সম্মেলনকে সামনে রেখে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। রক্তদান শিবে পরিদর্শন করে সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হাসপাতালে গিয়ে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে সেটা রোগীকে কিংবা তার পরিবারকেই জোগাড় করতে হচ্ছে।
যারা রক্ত পাচ্ছে না তারা ভীষণ সমস্যায় পড়ে যাচ্ছে। এর থেকে যেটা মনে হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে রক্তের জোগান নিশ্চিত করতে থেকে রক্তদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে যদি রক্তদান করা না গেলে রক্ত সংকটের সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি বলেন, রাজ্যের হাসপাতাল গুলি ভালো চলছে না। পরিষেবার ক্ষেত্রে দিন দিন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। কারণ হাসপাতালের সিনিয়র ডক্টররা রোগীদের সরাসরি দেখভাল করছেন না। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করার পর ইন্টান ছেলেমেয়েদের দ্বারা হাসপাতালগুলি চালানো হচ্ছে। তারা একদিকে যেমন ১২ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করছে, অপরদিকে তাদের ছুটি নেই। এক প্রকার ভাবে তারা চরম অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে সীমাবদ্ধ অভিজ্ঞতাতে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে রাজ্যের জিবি, আইজিএম হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন কিসের ভিত্তিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশেষ উন্নতি ও অগ্রগতি হচ্ছে সেটা নজরে আসছে না। কারণ সরকারের বক্তব্যের সাথে বাস্তব অভিজ্ঞতার কোন মিল নেই। তারপরও সরকার যদি এ ধরনের সংগতিহীন বক্তব্য করে তাহলে এই সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে বিক্ষোভ আরও বেশি বাড়বে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। ডাক্তার, নার্সের ডিগ্রি নিয়ে ছেলেমেয়েরা বসে আছে। তাদের নিয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল থেকে সব ওষুধ দেওয়া সম্ভব না হলেও কিছু ওষুধ রোগীদের দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর এইগুলি করা না গেলে সরকারের অস্তিত্বের ভিত্তি কি প্রশ্ন তুলেন? আরো বলেন স্বাস্থ্যের মতো শিক্ষা ক্ষেত্রেও সরকার অবহেলা করে চলেছে। অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছে, অথচ পড়াশোনা ঠিকভাবে হচ্ছে না। সুতরাং শিক্ষার ক্ষেত্রও আক্রান্ত। তাই এর বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি রাখতে হবে বলে জানান তিনি। আয়োজিত রক্তদান শিবিরে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সি আই টি ইউ নেতা অমল চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা।

