Wednesday, August 17, 2022
বাড়িরাজ্যমন্ডল নেতার চাপে পড়ে পুলিশের নাগালের বাইরে অভিযুক্ত

মন্ডল নেতার চাপে পড়ে পুলিশের নাগালের বাইরে অভিযুক্ত

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ মে। শাসক দলের চাপে পড়ে সব কিছুই হজম করতে শিখে গেছে জনগণের জন্য শপথ নেওয়া পুলিশ অফিসাররা।প্রতিবেশীর মারে আক্রান্ত বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধার মিলছে না সুবিচার। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধর করে হাত ভাঙলে থানায় অভিযোগ জমা করার ১১ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এফআইআর রেজিস্টার করছে না পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ এয়ারপোর্ট থানাধীন নড়সিংগড়ের কল্যান সেন পাড়ার অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধার।

পুলিশ সবকিছু মুখ বুজে স্থানীয় বিধায়ক এবং মন্ডল নেতাদের চাপে পড়ে সহ্য করে নিচ্ছে। আর এর পেছনে রয়েছে মন্ডল নেতাদের সাথে থানার পুলিশ অফিসারদের গোপন বোঝাপড়া বলে সূত্রে খবর। জানা যায় বৃদ্ধ বৃদ্ধা জানান, গত ৯ মে তাদের ছেলে সনতি বর্মন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রতিবেশী আনন্দ বর্মন মারধর করে। খবর পেয়ে ছুটে যায় তার বৃদ্ধ মা-বাবা। কিন্তু মদপ্য মন্ডল নেতা আনন্দ বর্মণের আক্রমণে ৮০ বছরের বৃদ্ধ সুভাষ বর্মন ও ৬৫ বছরের বৃদ্ধা সুনীতি বর্মন উভয়ের হাত ভেঙ্গে যায়। এই ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করে আহতের পরিবার। কিন্তু মামলায় রেজিস্টার করতে পুলিশের চেয়ার টেবিল কাঁপছে। ফলে পুলিশের ভূমিকায় হতাশা বলে জানান আহত বৃদ্ধ বৃদ্ধা। পরবর্তী সময়ে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। নড়সিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে আহতদের স্থানান্তর করা হয় জিবিপি হাসপাতালে। এদিন আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এয়ারপোর্ট থানায় আনন্দ বর্মনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো পুলিশের কোন পদক্ষেপ নেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এলাকায় এ ধরনের নেতাগিরি দাদাগিরি সবকিছুই করে চলেছে।

অভিযুক্ত শাসক দলের মাতব্বর নেতা আনন্দ বর্ধন  জানান ঘটনার দিন অভিযোগকারীরা বাড়িতে এসে আক্রমণ করেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনিও পাল্টা আক্রমণ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। দাবি করেন আনন্দ বর্মনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু অভিযুক্ত আনন্দ বর্মন জানান স্থানীয় বুথ সভাপতি প্রদীপ দে এবং অন্যান্য নেতৃত্বরা আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি সালিশি সভার মাধ্যমে মীমাংসা করে দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় মাতব্বরদের অঙ্গুলিহেলনে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয় সুবিচার পাচ্ছে না।নড়সিংগড়ের কল্যাণ সেন পাড়ার বৃদ্ধ-বৃদ্ধা স্বামী-স্ত্রী। প্রশ্ন উঠছে ক্ষমতার কাছে এই দুইজন আহত মানুষের বিচারের দাবি পারবে কি মাথা তুলে দাঁড়াতে?

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য