Tuesday, July 23, 2024
বাড়িরাজ্যপ্রকাশক ও পুস্তকবিক্রেতাদের দাবিদাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স...

প্রকাশক ও পুস্তকবিক্রেতাদের দাবিদাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স অ্যাসোসিয়েশন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৩ জুন :  প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগরতলার বুকে আয়োজিত হয়ে গেল পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স অ্যাসোসিয়েশন, ত্রিপুরার বার্ষিক সম্মেলন।  আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবে সকাল ১১টায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষক, সমাজসেবক তথা ত্রিপুরা সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী। তিনিই ছিলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সভাধিপতি হরিদুলাল আচার্য। সম্মানিত অতিথিরূপে উপস্থিত ছিলেন জয়রাম লাইব্রেরির কর্ণধার সুদামচন্দ্র সাহা। আমন্ত্রিত অতিথির পদ বৃত করেন বিশিষ্ট পুস্তকবিক্রেতা দ্বিজেশ ভট্টাচার্য ( ধর্মনগর), চন্দন নন্দী ( বাইখোড়া ), আশীষ দেব (আমবাসা) এবং বিমলবিকাশ সাহা (আগরতলা)।

স্বাগত ভাষণে সংগঠনের সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা পারুল প্রকাশনীর কর্ণধার গৌরদাস সাহা সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আলাপ আলোচনার ওপর জোর দেন। ছোট বড় সব প্রকাশকের স্বার্থরক্ষা করাই যে অ্যাসোসিয়েশন-এর মুখ্য উদ্দেশ্য, তা গৌরদাসবাবু তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বুঝিয়ে দেন। প্রকাশক ও পুস্তকবিক্রেতাদের দাবিদাওয়া সরকারের কাছে নিয়মিত, যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে  পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স অ্যাসোসিয়েশন যে বদ্ধপরিকর, সেই সংকল্পের কথাও তিনি সকলের সামনে ব্যক্ত করেন।

সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সাহিত্যিক রাখাল মজুমদার সবাইকে মনে করিয়ে দেন অ্যাসোসিয়েশন এর শুরুর দিনগুলোর কথা। কীভাবে প্রবল প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়েও সংগঠন তার সদস্যদের স্বার্থে লড়াই করে চলেছে, তার অনুপূর্বিক চিত্র তিনি সকলের সামনে তুলে ধরেন।

কোষাধ্যক্ষর দায়িত্বপালনকারী সহ-সম্পাদক বিশ্বনাথ রায় বিগত আর্থিক বর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব পেশ করেন।

সৌহার্দ্যময় পরিবেশে বিশিষ্ট অতিথিরা একে একে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সদস্যরা। এভাবেই পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে গৃহীত হয় আগামী দিনগুলির জন্য সংগঠনের কর্মসূচি।

আজকের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুরোনো কর্মসমিতি ভেঙে দিয়ে নতুন কর্মসমিতি গঠন। সর্বসম্মতিক্রমে  গৌরদাস সাহা ও রাখাল মজুমদার সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক রূপে পুনর্নির্বাচিত হন। সহসভাপতি হিসেবে আগরতলার বিশিষ্ট প্রকাশক ও পুস্তকবিক্রেতা সুদামচন্দ্র সাহার  নাম প্রস্তাবিত ও গৃহীত হয়। 

সুদামবাবুর কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি সদস্যদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনার সঞ্চার করে। ত্রিপুরার প্রকাশনা জগতে বিশেষভাবে সম্মানিত এই মানুষটির সাংগঠনিক দক্ষতার কথা কারওরই অবিদিত নয়।  সুদামবাবু ক্ষুদ্র ও মাঝারি পুস্তক বিক্রেতাদের স্বার্থে দীর্ঘকাল নিরলস লড়াই করে আসছেন। কর্মসমিতির অন্যান্য সদস্যরা হলেন দেবাশীষ পাল (সহ সম্পাদক), বিশ্বনাথ রায় (কোষাধ্যক্ষ), জয়জিৎ সাহা, বিক্রম সাহা, অজয় কুমার রায়, বিমল বিকাশ সাহা, রাজীব দত্ত ও স্বপন রায়।

রেজিস্ট্রেশন, সদস্যদের মধ্যে উপহার বিতরণ এবং সুভদ্রা রায়ের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আজকের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। পারুল লাইব্রেরীর কর্ণধার বিক্রম সাহার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষিত হয়।

সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিপ্রাহরিক জলযোগে আমন্ত্রিত ছিলেন সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের কর্মী বন্ধুরাও। সৌহার্দ্য, প্রীতি, বন্ধুতা ও সহযোগিতার যে মায়াময় পরিবেশ আজকের সম্মেলনে রচিত হল, তা থেকে প্রকাশক ও পুস্তকবিক্রেতাদের প্রতি অ্যাসোসিয়েশনের দায়বদ্ধতা  সম্পর্কে আশাবাদী হওয়াই যায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য