Tuesday, April 16, 2024
বাড়িরাজ্যরিহ্যাব সেন্টারে থাকা যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

রিহ্যাব সেন্টারে থাকা যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ মার্চ : রিহ্যাব সেন্টারে থাকা যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু জিবি হাসপাতালে। রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম তাপস রঞ্জন পাল (২০)। বাড়ি তেলিয়ামুড়া শান্তিনগরে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তাপসকে গত কয়েক মাস আগে মধ্য ডুকলি এলাকার সানরাইজ নামে একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করানো হয়েছিল।

 প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা এবং ঔষধের মূল্য দিতে হতো রিহ্যাব সেন্টারে। কারণ সে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোন সহ নানা জিনিস কিনে দেওয়ার দাবি করে পরিবারের লোকজনদের মারধর করত। তাই তাকে ভর্তি করানো হয়েছিল রিহ্যাব সেন্টারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের লোকজনদের কাছে ফোন আসে তাপস অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে এসে দেখে তাপসের অবস্থা সংকটাপন্ন। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার জানিয়ে দেন আই.সি.ও -তে নিতে হবে তাপসকে। দীর্ঘক্ষণ ছোটাছুটি করে তাপসের জন্য আই সি ইউ -র শয্যা মিলে নি। কিছুক্ষণ পর তাপসের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে পরিবারের লোকজনেরা চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান তার নিমোনিয়ার সমস্যা ছিল। যার কারণে মৃত্যু হয়েছে।

তারপর বিষয়টি নিয়ে পরিবারের লোকজন সংশয় প্রকাশ করলে চিকিৎসক জানিয়েছেন ময়না তদন্তের পর ষ্পষ্ট হবে মৃত্যুর কারণ। এদিকে রিহ্যাব সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা মৃতের পরিবারকে জানিয়েছেন তাপসের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। এর জন্য বুধবার রাতে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিলে রিহ্যাব সেন্টারের পক্ষ থেকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো নি। বৃহস্পতিবার সকালে নিয়ে আসা হয় জিবি হাসপাতালে। যার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছে মৃতের পরিবার। মৃতের পরিবারের বক্তব্য যদি সঠিক সময় মত বুধবার সন্ধ্যায় তাদের এ বিষয়ে অবগত করা হতো তাহলে হয়তো তাপসের অকালে মৃত্যু হতো না। তবে যতদূর জানা যায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ব্যাঙের ছাতার মতো আগরতলা শহরে ও অন্যান্য মহকুমায় গজিয়ে উঠেছে এ ধরনের সেন্টার। কিন্তু এগুলির ভেতরে যুবকদের উপর কি ধরনের অত্যাচার চলে সেটা অনেকেই অবগত নয়। কারণ নেশা মুক্ত এবং শুদ্ধিকরণের নামে এসব সেন্টারে দেওয়ার পর তারা চিকিৎসা বলতে কোন কিছুই করে না। কারণ যে কারণে যুবকদের এসব সেন্টারে নিয়ে ভর্তি করানো হয় সেসব রোগের কোন ঔষধ আবিষ্কার হয়নি এখনো বলে সূত্রে খবর। শুধুমাত্র মারধোর করে রোগীকে। আর পরিবারে কাছ থেকে কয়েক মাস হাতিয়ে নেয় মোটা অংক। কিন্তু দায় এড়িয়ে চলে যাচ্ছে প্রশাসন। এই ধরনের সেন্টারে ভেতরে যুবকদের আটক করে চিকিৎসার নামে কি চলছে সেটা একবারের জন্য যাচাই করা প্রয়োজনটুকু মনে করছে না প্রশাসনিক কর্মীরা। ফলে বহু মার কূল হারাচ্ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য