Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্য২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ৪২ তম আগরতলা বইমেলা, প্রস্তুতি সভার পর...

২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ৪২ তম আগরতলা বইমেলা, প্রস্তুতি সভার পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩০ ডিসেম্বর:  ৪২ তম আগরতলা বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই আগরতলা বই মেলা চলবে পাঁচ মার্চ পর্যন্ত। শনিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত আগরতলা বইমেলার প্রস্তুতি সভায় এই দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

 শনিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ৪২ তম আগরতলা বইমেলার আয়োজন নিয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রস্তুতি সভায় পৌরহিত্য করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা। প্রস্তুতি সভায় চূড়ান্ত হয় ৪২ তম আগরতলা বইমেলা শুরু হবে আগামী বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে। চলবে পাঁচ মার্চ পর্যন্ত। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা বলেন, এই প্রস্তুতি সভায় সকলেই আলোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এর বাইরে নতুন করে কোন কিছু বলবেন না। কারণ মুখ্যমন্ত্রী পড়লে সেটা অনেকটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

 মুখ্যমন্ত্রী নিজে এমনটা চান না। আগরতলা বইমেলার প্রস্তুতি কমিটি কিংবা উপকমিটিতে যারা রয়েছেন তারা সকলে মিলে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যে সমস্ত প্রকাশনা সংস্থা কিংবা লেখকরা উপস্থিত হবেন তারা সকলেই চিন্তা-ভাবনা করবেন তাদের বইটা যেন বিক্রি হয়। আবার মাথায় একটা চিন্তা রয়েছে যানবাহনের চালকরা বেশি পয়সা নেয়। কিন্তু যে ব্যক্তি গাড়ি চালাচ্ছেন তারও মাথার মধ্যে রয়েছে এই সময়ের মধ্যে কিছু পয়সা কামিয়ে নেওয়ার। কারণ প্রতি সেকেন্ডে কিংবা প্রতি মিনিটে বইমেলায় যাওয়ার জন্য বইপ্রেমীরা আসবেন, বিষয়টা এরকম নয়।  সবটাই হচ্ছে ভিন্নমতের চিন্তাধারা। কিন্তু যানবাহনের চালকরা যাতে বেশি পয়সা না নেয় এই বিষয়টার উপর গুরুত্ব দেবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা আরো বলেন মেলা মানেই একটা মিলন উৎসব। সবাই যেমন আসবেন আবার সকলের সমস্যাও থাকবে। সব ধরনের সমস্যার যে ১০০ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব বিষয়টা এরকমও নয়।

 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে মঞ্চ তৈরি করা হবে সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য এবং সংগীত পরিবেশনও হবে। পাশাপাশি প্রতিদিনই মঞ্চে কোনো না কোনো অনুষ্ঠান উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু সাউন্ড যাতে কম হয় এর উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। প্রতিদিন গান বাজনার অনুষ্ঠানটাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে মঞ্চে কফি হাউজের আড্ডার মত লেখক সাহিত্যিক কিংবা প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত যারাই রয়েছেন তাদেরকে নিয়ে আড্ডার ব্যবস্থা করা হলে আলোচনার মাধ্যমে নতুন বিষয়ের উন্মোচন হতে পারে। ট্রাফিক পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত পশ্চিম জেলার ট্রাফিক সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় যাতে কোন ধরনের দুর্বলতা না থাকে এর জন্য গুরুত্ব আরোপ করেন বিদ্যুৎ নিগমের পদাধিকারীদের। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারাই আসেন তারা নাকি একটা সমস্যার সৃষ্টি করেন। এই বিষয়টা এদিন প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারাই আসেন তারা এ ধরনের সমস্যা কেন সৃষ্টি করেন সেই বিষয়টা আগে থেকে জানা থাকলে ভালো হয়। কারণ এখানে এসে কেউ সমস্যা সৃষ্টি করবে বিষয়টা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। ৪২ তম আগরতলা বইমেলা নিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়েও এদিন সহমত পোষণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় লোক লেখকদের বই পড়তে চান না অনেকেই। এই বিষয়টি ভাবনা চিন্তার মধ্যে রাখার উপর গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। –

 এদিন এই প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, আগরতলা স্থিত বাংলাদেশ সহকারি হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ আহমেদ, স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভির সম্পাদক সুবল কুমার দে, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য