Tuesday, May 28, 2024
বাড়িরাজ্যদেশ বাঁচানোর জন্য বিজেপি -কে হটাতে মানিকের আহ্বান

দেশ বাঁচানোর জন্য বিজেপি -কে হটাতে মানিকের আহ্বান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৩ জুলাই : ২০২৪ -এর নির্বাচনে বিজেপিকে শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, পরাস্ত করতে হবে। কারণ তারা সরকারে থাকলে দেশবাসীর সমস্যা সমাধান হবে না। তাই এই সরকারকে হটাতে বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি নিয়ে একটা সরকার তৈরি করা না গেলে ভারতবর্ষকে রক্ষা করা যাবে না।

 কারণ সারা দেশ জুড়ে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তার উপর দিয়ে রয়েছে ফ্যাসিস্টসুলভ ভাবনা। যা দেশকে সর্বনাশ করে দেবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করলেন পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার। রবিবার আগরতলা টাউন হলে আয়োজিত ডি.ওয়াই.এফ.আই -র কনভেনশন তিনি বলেন বহু আন্দোলন হয়েছে। এখন পার্লামেন্টের ভিতরে কথা বলতে দিচ্ছে না সদস্যদের।

টিটিএএডিসি -কে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ১২৫ তম সংশোধনী বছরের পর বছর ধরে চলছে। যখন ষষ্ঠ তপশীল ভিত্তিতে ত্রিপুরা জেলা পরিষদ তৈরি হয় তখন যে আইন বামফ্রন্ট সরকার তৈরি করেছিল মাঝামাঝি সময় তার কিছু সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এডিসি-র হাতে অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

বিজেপি সরকার শুধু মাত্র মুখে উপজাতি দরদ দেখাচ্ছে। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে তারা জনজাতিদের প্রকৃত অর্থে শত্রুতা করছে বলে অভিযোগ করলেন মানিক সরকার। তিনি আরো বলেন, ককবরক ভাষাকে অষ্টম তপশিলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় মর্যাদা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাবি জানিয়ে আসছে বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন কথা বলছে না কেন্দ্র সরকার। এখন একটা অংশ জনজাতিদের বিপথগামী করার যে প্রচেষ্টা করেছিল, তারা গত বিধানসভা নির্বাচনে গোপনে ত্রিপুরার অতি সর্বনাশ করেছে। তারা গোপনে ত্রিপুরার সর্বনাশ না করলে আজ ত্রিপুরায় অন্য একটি জনগণের সরকার থাকতো। তাই লোকসভা নির্বাচনে এদিকে সক্রিয় থাকতে হবে।

 তাই এখন তরুণ সমাজকে তাদের কাছ থেকে মুক্ত করতে হবে। তিপ্রা মথার নাম উল্লেখ না করে এ কথা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন মানিক সরকার। আরো বলেন, যে গাছের পাতা দিয়ে নেশা দ্রব্য তৈরি হয়, সেই গাছ এখন ত্রিপুরায় ধানের চেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে। এগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে এ সরকারের নেতা নেত্রীরা। আর এগুলি কারা করছে সেটা নাম বলার প্রয়োজন নেই। সবাই জানে। সীমান্ত খোলা বলে, সেখানে দিয়ে পাচার করা হচ্ছে এই সামগ্রী। আর এগুলি বন্ধ করা না গেলে ছেলে মেয়েদের রক্ষা করা যাবে না। শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে আসার পর তার অফিসাররা বলছেন সীমান্তটি ভূস্বর্গ হিসেবে ব্যবহার করছে নেশা কারবারিরা। সুতরাং এর বিরুদ্ধে যদি কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার ভুমিকা নামে তাহলে রাজ্যের ছেলেমেয়েদেরকে রক্ষা করবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মানিক সরকার। তবে এদিন তিনি সোনামুড়া মহকুমা বিজেপি নেতৃত্বে ইঙ্গিত করেছেন।

বর্তমানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চালু হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার নয়া জাতীয় শিক্ষা নীতি চালু করেছে, সেটাই সর্বনাশা শিক্ষানীতি। এই শিক্ষা নিতি অনুযায়ী গরিব মধ্যবিত্ত অংশের মানুষ পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে না। শুধুমাত্র ধনী ঘরের ছেলে মেয়েরাই পড়াশোনার করার সুযোগ পাবে। এ নয়া শিক্ষা নীতি চালু করার মূল লক্ষ্য হলো পুঁজি-পতিদের স্বার্থ রক্ষা করে। কিন্তু এভাবে দেশে ইতিহাস ভুলে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। অপসংস্কৃতি নিয়ে এবং যুক্তি তর্কে ধারণা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে এই সরকার। বিনা খরচে কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করার যে সুযোগটি পূবর্তন সরকার চালু করেছিল সেটা পর্যন্ত তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে ডি.ওয়াই.এফ.আই যে আন্দোলন সংঘটিত করছে তা সঠিক বলে দাবি করলেন পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার। রবিবার আগরতলা টাউন হলে আয়োজিত ডি.ওয়াই.এফ.আই -র কনভেনশন তিনি যুব কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে না আসতে পারলে আগামী দিন বিপাকে পড়তে হবে দেশবাসীকে। শিক্ষাক্ষেত্র এই সরকার সর্বনাশ নামে আনছে। কারণ রাজ্যে বর্তমানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। উপরন্তু বিভিন্ন স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এক অভাব পড়বে রাজ্যের ছেলে মেয়েদের উপর বলে জানান শ্রী সরকার। আয়োজিত কনভেনশন এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম দলের পরিষদীয় দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক, সম্পাদক নবারুণ দেব সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য