Sunday, February 8, 2026
বাড়িরাজ্যআইজিএম হাসপাতালে অচল লিফট পরিষেবা, রোগীদের অবস্থা হাসপাতাল গিয়ে হল আরো সংকটজনক

আইজিএম হাসপাতালে অচল লিফট পরিষেবা, রোগীদের অবস্থা হাসপাতাল গিয়ে হল আরো সংকটজনক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২০ জুলাই : দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতালে তাকমা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ভবন যেন মানুষকে পরিষেবা দিতে নয়, মানুষের জীবন হানি করতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শতবর্ষ পুরনো এই আইজিএম হাসপাতালের লিফট পরিষেবা আবারো মুখ থুবড়ে পড়েছে। কয়েকদিন পরপরই বিকল হয়ে পড়ছে হাসপাতালের লিফট।

বহুবার খবরের শীর্ষস্থান দখল করলেও হুশ ফিরছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাক্তার দিলীপ দাস লিফটের সমস্যার সমাধানের জন্য বহুবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কয়েকদিন পরপরই বিকল হয়ে পড়ছে হাসপাতালে লিফট। আর এই বিষয় নজর এড়িয়ে চলছেন দায়িত্বে থাকা এমএস দেবশ্রী দেব বর্মন। বুধবার রাত থেকে হাসপাতালের লিফট গুলি নষ্ট হয়ে আছে। বৃহস্পতিবারও দেখা গেছে সংকটজনক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার জন্য চিকিৎসক বলার পর পায়ে হেঁটে নিয়ে যেতে হচ্ছে পঞ্চম তল এবং ষষ্ঠ তলে। বহু শ্বাসকষ্টের রোগীর লিফট ছাড়া পায়ে হেঁটে ওঠার ফলে অবস্থা আরো বেশি সংকটজনক হয়ে পড়ে। বহু রোগীর পরিজন জানায়, সিঁড়ি উঠার পর তাদের পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে।

 মাঝ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পড়তে হচ্ছে, নাহলে বসে পড়তে হচ্ছে। এক রোগীর ছেলে জানান তার মা কিডনি রোগী এবং তার উপর দিয়ে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ষষ্ঠ তলে ভর্তি করার জন্য বলেছেন। কিন্তু ছেলে নিরুপায় হয়ে তার মাকে পায়ে হেঁটে ষষ্ঠ তলে তোলার জন্য রওনা হয়েছে। তিনি বলছেন এভাবে সম্ভব নয় একজন রোগীকে তোলা। কিন্তু হাসপাতালে পরিষেবা নিতে গেলে আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই রোগীকে ভর্তি জন্য কক্ষে নিয়ে যাওয়ার। বিশেষ করে ডায়ালিসিস রোগীদেরও এদিন এইভাবে ভর্তির কক্ষে নিয়ে যেতে বিপাকে পড়েছে বহু রোগীর পরিজন। বহুরোগীর পায়ে হেঁটে উপরে উঠতে গিয়ে মাঝ সিঁড়িতে বসে পড়েছেন। কেউ কেউ কাদছেন। এদিকে এক রুগীর ছেলে জানান কাঁধে করে তার বয়স্ক মাকে নিয়ে উপরে ভর্তি কক্ষে আসতে হয়েছে। এবং রোগীকে ভর্তি করতে এসে দেখেন আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ইনফরমেশন সেন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মীর সাথে সাংবাদিকরা কথা বললে তারা বলেন, বুধবার রাত সাড়ে বারোটা থেকে এভাবে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে লিফটগুলি। সাথে সাথেই এই বিষয়ে মেকানিক্যাল সেকশনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত লিফট মেরামত করতে আসেনি। ইনফরমেশন সেন্টারে কর্মীরা আরো জানান এ বিষয়ে তাদের যতটুকু দায়িত্ব ততটুকু করেছেন। বাকিটা হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং এমএস জানেন। তবে আইজিএম হাসপাতালে এভাবে লিফট পরিষেবা নষ্ট হওয়ার ঘটনা কোন নতুন বিষয় নয়। গত এক বছর ধরেই কিছুদিন পর পর এভাবে লিফট পরিষেবা নষ্ট হয়ে পড়ছে। আর হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা নেতারা গিয়ে বলছেন বহু কাজ হচ্ছে। আর সেই বহু কাজের দৃশ্য ক্যামেরায় ফুটে উঠেছে বৃহস্পতিবার। কি কারনে এভাবে লিফট পরিষেবা কিছুদিন পরপর মুখ থুবড়ে পড়ে তার কোন সুস্পষ্ট জবাব এদিন দিতে পারলেন না হাসপাতালে ইনফরমেশন সেন্টার। বহুরোগী হাসপাতালে এসে এ ধরনের বেহাল পরিষেবা দেখে রোগীকে নিয়ে ভর্তি করাচ্ছেন বেসরকারি নার্সিংহোমে। কারণ অনেকের অভিমত হাসপাতালটির অভিভাবক থাকার পরও কোন এক অজ্ঞাত কারণবশত অভিভাবক নেই। কারণ যারা লিফট পরিষেবা সচল রাখার দায়িত্ব রয়েছেন অর্থাৎ মেকানিক্যাল দায়িত্বে রয়েছেন তারা কেন এই জরুরী পরিষেবার ক্ষেত্রে গাহেলামি করে চলেছে।

 এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যদি উদাসীনতা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল কর্মীদের বাতিল করে, অন্য কর্মীদের নিয়োজিত করা হচ্ছে না সে বিষয়টি মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো লিফটের পাশাপাশি কেন শত বছর পুরনো হাসপাতালে মধ্যে এখন পর্যন্ত গড়ে উঠলো না র‍্যাম্প পরিষেবা। বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শুধু অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই হয় না, সেই অর্থ কতটা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটাই বড় প্রশ্ন। মন্ত্রীদের আবাসনের কয়েকশো মিটার দূরে এভাবে দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতালের পরিষেবার নগ্ন দশা হলেও খোঁজ রাখছেন না কেউই। ভুক্তভোগী রুগী। বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম তোলের একটি হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা পরেও দুপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ রোগীকে নিচে নামানোর কোন বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ। এর জবাব নেই হয়তো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের কাছে। এভাবে আর কত রোগীর দুর্ভোগ হলে হুশ ফিরবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সরকারের প্রশ্ন আমজনতার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য