স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৫ জুলাই : স্বামী অসুস্থ, দুই কন্যাকে নিয়ে চারজনের সংসার। পরিবারের কারোর যাতে উপোস থাকতে নেওয়া হয় তার জন্য সকলের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে রাস্তায় অটো চালিয়ে আট মাস ধরে জীবন যুদ্ধে মুখে হাসি ফুটেছে এক গৃহবধুর। এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হলো কমলাসাগর বিধানসভার অন্তর্গত গোকুলনগর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায়। জানা যায়, কমলা সাগর বিধানসভার অন্তর্গত গকুলনগর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকার গোপাল নাহা অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী।
অসুস্থ গোপাল নাহার পরিবারে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। গোপাল নাহা বিছানায় শয্যাশায়ী হওয়ার পর তাদের সংসারে রোজগার করার মত কেউ নেই। সংসারের হাল কিভাবে ধরে রাখা যায় দুশ্চিন্তায় পড়েছিল গোটা পরিবারটি। গত ৮ মাস আগে গোপাল নাহার স্ত্রী লক্ষ্মী দেবনাথ নাহা সংসারের হাল ধরতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত অটো ক্রয় করে। সংসারের জন্য অর্থ উপার্জনে টমটম নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন পরিবারের লক্ষী। মহিলা বলে প্রথম প্রথম অটো চালাতে খুব অসুবিধা হতো। রাস্তায় অন্যান্য গাড়ি চালকরা গৃহবধূকে দেখে অনেক টিপ্পনী দিত। তারপরেও হাল ছাড়েনি লক্ষী দেবনাথ নাহা। পরে লক্ষী দেবী বিশালগড়ের বিধায়ক সুশান্ত দেব এবং কমলা সাগরের বিধায়িকা অন্তরা দেব সরকারের সহযোগিতা চায়। তারপর দুই বিধায়ক অটো স্ট্যান্ডের জানিয়ে দেন। তারপর থেকে প্রতিদিন দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে জীবন সংগ্রামে জয়ী লক্ষ্মী দেবী। প্রতিদিন অটো দিয়ে বিশালগড় থেকে আগরতলা পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা দেন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে পুরুষ মহিলা সবার সমান অধিকার রয়েছে। আর তাই তিনি অসুস্থ স্বামীকে এবং দুই কন্যা সন্তানকে বাড়িতে রেখে তাদের মুখে দু মুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য অটো নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। অটো চালিয়ে যা টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনরকম ভাবে স্বামী সন্তান নিয়ে বেঁচে আছেন। এভাবে প্রতিদিন বহু লক্ষী দেবী জীবন সংগ্রামী জয়ী হচ্ছেন। কিন্তু কেউ রাখে না তাদের খবর। হাজারো ভিড়ের মধ্যে বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার নামই হবে জীবন। আজকে চিন্তাধারা রেখে জীবন যুদ্ধের জয়ী বহু লক্ষ্মী।

