স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩ জুলাই : বর্তমান মন্ত্রীরা বলেন, রাস্তা অবরোধ করে বা আন্দোলন করে কোন সমস্যার সমাধান হয় না। কিন্তু আন্দোলনের পর হুশ ফিরছে সরকারের অধীনে থাকা প্রশাসনিক আধিকারিদের। কাতারে কাতারে প্রশাসনিক আধিকারিক এসে জমায়েত হয় পথ অবরোধ স্থলে। অভিযোগ অমরপুর – শিলাছড়ি রাস্তার বেহাল দশা। বহুবার অভিযোগ জানানোর পরও যখন রাস্তাটি সংস্কার হয়নি।
ধৈর্যসীমা হারিয়ে সোমবার অবরোধ করলে অটো চালকরা। শেষ পর্যন্ত অবরোধস্থল থেকে টেন্ডার ডাকার দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন অফিসার বাবুরা। তারপর অবরোধ প্রত্যাহার করে অটো চালকরা। জানা যায়, অমরপুর থেকে শিলাছড়ি পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা। প্রশাসনের নিকট বহু বার দাবি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অবশেষে গাড়ি শ্রমিকরা আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। সোমবার সকালে অমরপুর থেকে শিলাছড়ি রাস্তার মোট পাঁচটি জায়গায় পৃথক পৃথক ভাবে পথ অবরোধে শামিল হয় মোটর শ্রমিকরা। অবরোধের ফলে বিস্তৃন্ন এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্দ হয়ে পরেছে। রাস্তাটির দায়িত্ব থাকা এন.এইচ.আই.সি.ডি.এল – এর এক বাস্তুকারকে নিয়ে মন্ত্রী দাস পাড়ায় অবরোধ স্থলে পৌছায় করবুকের মহকুমা শাসক পার্থ দাস। আগামী সাত জুলাই থেকে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন এন.এইচ.আই.সি.ডি.এল -এর বাস্তুকার শঙ্কর দেব গৌড়। লিখিত প্রতিশ্রুতি পেয়ে রাস্তাটি অবরোধ মুক্ত করা হয়। অবরোধকারীদের বক্তব্য দীর্ঘ এক বছর ধরে রাস্তাতে খারাপ হয়ে রয়েছে। বহুবার জেলা শাসক এবং মহাকুমার শাসককে অবগত করা হলেও তারা কোন ভাবেই রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন না
। প্রতিদিন যান দুর্ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। এমনকি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে গাড়ির ক্ষতিও হচ্ছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে এদিন আন্দোলনে শামিল হয়েছে। কিন্তু এদিন লক্ষ্য করা গেল এক ব্যতিক্রমী চিত্র। জান পান ফেলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আধিকারিকদের যখন অবরোধকারীরা গালিগালাজ করছে তখন করবুক মহকুমা শাসক পার্থ দাস বলেন, পোষ্টের উপর আঙ্গুল তুলবেন না। আমাকে গালি দেন, নো প্রবলেম। কিন্তু অতিষ্ঠ অবরোধকারীরা দিশেহারা হয়ে এবার আধিকারিকদের ঘাড়ে যে পুরোপুরি বিষয়টা চাপাতে শুরু করেছে সেটাই দিন ষ্পষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অমরপুর টাউন রাংখং এলাকায় সড়ক অবরোধে বসে অমরপুর অটো চালক সংঘের শ্রমিকরা। জানা যায় দীর্ঘ এক বছর যাবত অমরপুর – যতনবাড়ি সড়ক এবং অমরপুর – তেলিয়ামুড়া সড়ক সহ উদয়পুর – অমরপুর রাস্তার বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। মহকুমা শাসক এবং জেলা শাসককে এ বিষয়ে বহুবার অবগত করা হয়েছে। এর আগে যখন রাস্তাটি অবরোধ করা হয়েছিল তখন জেলা শাসক নিজে এসে দপ্তরের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন অতিসত্বর যাতে রাস্তাতে সংস্কারের কাজে হাত লাগানো হয়। কিন্তু দপ্তরে কিছু সিপিআইএমের দালাল বসে থাকার কাজ আটকে আছে বলে দাবি অটো শ্রমিকদের। দীর্ঘ এক বছরের অধিক সময় ধরে প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা খারাপ হয়ে আছে।
সেসব দালাল রাস্তাটি সংস্কারের কাজে হাত না লাগিয়ে মানুষকে দুর্ভোগ দিয়ে সরকারকে কালিমা লিপ্ত করতে চাইছে বলেও জানান এদিন অবরোধকারী অটো শ্রমিকরা। এদিকে খবর পেয়ে ছুটে আসে প্রশাসনিক কর্মী। বিগত আন্দোলনের সময় যেভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল একইভাবে এদিন অবরোধকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু অটো শ্রমিকদের দাবি অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের কাজে হাত লাগাতে হবে। না হলে ছোটখাটো যান দুর্ঘটনার পাশাপাশি তাদের গাড়ির ব্যাপক হয় ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি কে মেটাবে স্থানীয় প্রশ্ন তুলেন তারা? পরবর্তী সময় অমরপুর মহাকুমার শাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে যান শ্রমিকদের নিয়ে দায়িত্বে থাকা সবকটি দপ্তরের আধিকারিকরা বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হয় রাস্তার কাজে দ্রুত হাত লাগানো হবে। এবং দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ হবে। বৈঠকের পর শ্রমিকরা জানান, যদি অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার নাহলে তারা পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

